মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে অপহরণের পর লালন দেওয়ান (৩৮) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। নিহত লালন দেওয়ান পৌর এলাকার মধ্য সিঙ্গাইর মহল্লার মৃত হারুনুর রশিদের ছেলে। সে দুই সন্তানের জনক।
শনিবার (২৭ জুন) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের খৈয়ামুড়ি এলাকার একটি পাটক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী খন্দকার আল-মামুন খসরুর ছেলে মাদক ব্যবসায়ী উজ্জল (৩২) ও অনিক(২৭) এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। ঘটনার পর তারা পলাতক রয়েছে।
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উজ্জল এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। লালন দেওয়ান উজ্জলের প্রতিবেশী। সম্প্রতি উজ্জল দুই লক্ষাধিক টাকা মুল্যমানের একটি ইয়াবার চালান নিজ বাড়ির ছাদের কার্ণিশে লুকিয়ে রাখে। সেখান থেকে মাদকের চালানটি খোয়া যায়। এঘটনায় লালন দেওয়ান জড়িত সন্দেহে তার কাছে মাদকের চালানটি ফেরত চান উজ্জল। কিন্তু মাদক চুরির কথা অস্বীকার করে লালন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
নিহত লালন দেওয়ানের স্ত্রী মমতাজ বেগম বলেন, মিথ্যা চুরির অভিযোগ এনে মাদকের চালান ফেরত দিতে আমার স্বামীকে চাপ দেয় উজ্জল ও তার ছোট ভাই অনিক। এক পর্যায়ে মাদকের চালান ফেরতের বিনিময়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয় তারা। বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশকে জানানো হয়। এরপরও উজ্জল ও তার ভাই অনিক আমার স্বামী লালনকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
নিহতের ভাই হালিম দেওয়ান বলেন, শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে লালন দেওয়ান বাইসাইকেলে করে স্থানীয় ঘোনাপাড়া মোড়ে চা খেতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে উপজেলা হাসপাতাল রোডের কামালের বাড়ির সামনে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে লালনের গতিরোধ করে উজ্জলসহ ৪-৫ জন যুবক। এসময় জোর করে লালনকে একটি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় তারা। ঘটনাটি সঙ্গে সঙ্গে থানা পুলিশকে জানানো হয়। সারা রাত খোঁজাখুজি করার পরও ভাইয়ের সন্ধান পাইনি। আজ সকালে উপজেলার বলধারা ইউনিয়েনের খৈয়ামুড়ি এলাকার একটি পাটক্ষেতে হাত-পা বাধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়।
এঘটনায় সিঙ্গাইর সার্কেল এএসপি মোঃ আলমগীর হোসেন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার মিয়া ও তদন্ত পরিদর্শক আবুল কালাম সকালেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত পরিদর্শক আব্দুস সাত্তার মিয়া জানান, লালন দেওয়ানের খোঁজ করতে শুক্রবার থানায় এসেছিল তার স্ত্রী ও পরিবারের লোকজন। তাদের কাছ থেকে ঘটনাটি জানার পর লালনকে উদ্ধারে নামে পুলিশ। সারা রাত চেষ্টা করেও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আজ শনিবার ভোরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে দুপুরের দিকে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন লালনকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
বার্তা বাজার / ডি.এস