দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় ছাত্রীকে ধর্ষণ করে সেই ভিডিও ফেসবুকে ছাড়ার অপরাধে পর্ণগ্রাফি আইনে সিরাজুল ইসলাম (২৯) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত সিরাজুল ইসলাম উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের লক্ষণপুর পাঠকপাড়া গ্রামের মো. আফজাল মন্ডলের ছেলে। সিরাজুল ইসলাম পেশায় একজন মুদি দোকানদার।
আজ শনিবার (২৭ জুন) ফেসবুকে ধর্ষণ করার ভিডিও ছাড়ার কারণে ওই ছাত্রীর মা বাদি হয়ে ফুলবাড়ী থানায় সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে পুলিশ সিরাজুল ইসলামকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে। আটকের পর দুপুরের মধ্যেই কোর্টে প্রেরণ করা হয় সিরাজুল ইসলামকে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সিরাজুল ইসলাম নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করার ভিডিও ধারণ করে। পরে আবার ধর্ষণ করার ভয় দেখিয়ে ভিডিওটি ফেসবুকে ছেড়ে দিয়ে ভাইরাল করার ভয় দেখায়। পরে ধর্ষণ করতে না পেরে সিরাজুল ইসলাম ধর্ষণের ভিডিওটি ফেসবুকে ছেড়ে দেয়।
পুলিশ জানায়, সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে লক্ষণপুর পাঠকপাড়ার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর বাড়িতে যায় সিরাজুল ইসলাম। এ সময় ওই বাড়িতে কেউ উপস্থিত না থাকায় একা পেয়ে কৌশলে ধষর্ণ করে মেয়েটিকে। ধর্ষণ করার সময় কৌশলে ভিডিও ধারণ করেন তিনি। ওই ভিডিও দেখিয়ে সিরাজুল ইসলাম দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করে। পরে তৃতীয়বার আবারও ধর্ষণ করার চেষ্টা করলে মেয়েটি অস্বীকৃতি জানালে সিরাজুল ইসলাম ভয় দেখিয়ে বলে, ধর্ষণ করতে না দিলে আমি ভিডিওটি ফেসবুকে ছেড়ে দিব। সেখান থেকে চলে এসে সিরাজুল ইসলাম ধর্ষণের ভিডিওটি ফেসবুকে প্রকাশ করে।
পুলিশ আরও জানায়, ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসুবকে ছড়িয়ে পড়লে ওই ছাত্রীর পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। পরে বিষয়টি গত শুক্রবার রাতেই পুলিশকে অবগত করেন ওই শিক্ষার্থীর পরিবার। পরে আজ শনিবার সকালে থানায় মামলা দায়ের করলে আমরা আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফখরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘শনিবার গ্রেপ্তারকৃত সিরাজুল ইসলামকে আইনের মাধ্যমে কোর্টে প্রেরণ করা হয়। বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে আসামিকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন। ভিকটিমকে পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগে পাঠানো হবে।’
বার্তা বাজার / ডি.এস