নিষেধাজ্ঞাকে ‘ম্যানেজ করে’ চলছে সাগরে অবৈধভাবে মাছ ধরা

সাগরে মাছ ধরার ক্ষেত্রে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করে থামছে না সাগরে মাছ ধরা। অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মৎস্য অফিসার মনোজ কুমার সাহাসহ কতিপয় সংবাদকর্মীদেরকেও মৈটা অংকের টাকা দিয়ে চুপ করিয়ে রাখা হয়েছে। একইসাথে লোকদেখানো ভ্রাম্যমাণ আদালতও চলছে। কিন্তু সরকারি নির্দেশ একেবারেই মানা হচ্ছে না।

কুয়াকাটার মহিপুর-আলীপুরসহ পটুয়াখালীর গোটা সমুদ্র উপকুলের দৃশ্য এখন এরকম। এভাবে চলতে থাকলে সমুদ্রে মৎস্য সম্পদ রক্ষাসহ চার শতাধিক সামুদ্রিক মাছের অবাধ বংশবৃদ্ধিসহ অধিক মাছের উৎপাদনের লক্ষ্যে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কার্যক্রম সম্পূর্ণ ভেস্তে যাবার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ তানবিরুল ইসলাম বলেন, মেরিন ফিশারিজ অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সরকার ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে সব ধরণের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করেছে। মূলত হারিয়ে যাওয়া মাছের কিছু প্রজাতির বংশবৃদ্ধির পাশাপাশি সামুদ্রিক ৪৭৫ প্রজাতির মাছের অবাধ প্রজননের জন্যই সাগরে এই অবরোধ দেয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, মহিপুর মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি ফজলু গাজী ও কলাপাড়ার মৎস্য ব্যবসায়ী মাছুম ব্যপারী ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রশাসন ও সাংবাদিককে ম্যানেজ করার দায়িত্ব নিয়েছেন। জেলেদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে উপজেলা মৎস্য অফিসার মনোজ কুমার সাহাসহ কতিপয় সংবাদকর্মীদেরও ম্যানেজ করে অবৈধভাবে মাছ শিকার চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

অভিযুক্ত ফজলু গাজী এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ অভিযোগ ঠিক না। আমার মালিকানাধীন ট্রলার ঘাটে আছে। অপর অভিযুক্ত মাছুম ব্যপারী বলেন, এ বিষয় আমার জানা নাই। কোন মহল যদি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সেটা তার ব্যপার। আমি এ বিষয় কিছু জানি না।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মনোজ কুমার সাহা জানান, উপজেলা মৎস্য অফিসার হিসাবে আমার বিরুদ্ধে আনিত যে অভিযোগ সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর