সুনামগঞ্জ জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা পানির নীচে। শুক্রবার রাত থেকে প্রবল বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে শহরের নীচু এলাকা ইতিমধ্যে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। পৌর এলাকা শনিবার(২৭ জুন) সকাল থেকে ঘুরে দেখা যায়, কাজির পয়েন্ট, মধ্যবাজার, আরফিন নগর, সাহেব বাড়ি ঘাট, দুফাখালি,ওয়েজখালি এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।
গত ৪৮ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে গত ৭২ ঘণ্টায় অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হওয়ায় বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বলা হয়, শনিবার সকালে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার সর্বোচ্চ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
সুরমা নদীর পানি ষোলঘর পয়েন্ট দিয়ে শনিবার (২৭ জুন) দুপুর ১২টার দিকে বিপদ সীমার ৫৭ সেন্টিমিটার এবং পাহাড়ী নদী যাদুকাটার পানি বিপদ সীমার ৫৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে আশংকা করছেন অনেকে।
শহরে আরফিন নগর এলাকায় অনেকের বাসা-বাড়িতে পানি উঠছে। জেলা শহর থেকে বিভিন্ন উপজেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে আজ দুপুর সুনামগঞ্জের ধারন নামক স্থানে ঝড়ের কবলে পড়ে একটি চলন্ত বাস রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে এতে তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান জানিয়েছেন, ভারতের মেঘালয়-চেরাপুঞ্জিতে গত ৭২ ঘণ্টায় ৯০২ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। যা এই মৌসুমের সর্বোচ্চ। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টি এবং এর আগের ৭২ ঘণ্টায় ২৯৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
এ কারণে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমা ৫৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া পাহাড়ী নদী যাদুকাটার পানি বিপদ সীমা ৮.৫ অতিক্রম করে ৮.৬১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জে বন্যার পানি কমার কোন আশংকা নেই দুই তিন দিনের মধ্যে। বরং বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বাড়তে পারে।
জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করার জন্য বলা হয়েছে। সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে প্রয়োজন হলে দ্রুত আশ্রয় কেন্দ্র খোলার জন্য। বন্যা পরিস্থিতি সার্বিক ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কে.এ.স/বার্তাবাজার