ঢাবি’র মেধাবী শিক্ষার্থী সুমাইয়া হত্যা,স্বামী-শ্বশুর ৩দিনের রিমান্ডে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী সুমাইয়া হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকাল ৫টায় রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান। রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, নিহতের স্বামী মোস্তাক ও শ্বশুর জাকির হোসেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) আব্দুল মতিন রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার বিকাল ৫টায় সুমাইয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোস্তাক হোসাইন ও তার বাবা জাকির হোসেনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপর দুই আসামির রিমান্ড আবেদনের শুনানি রবিবার হবে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, শিক্ষার্থী সুমাইয়াকে হত্যার পরদিন মঙ্গলবার বিকালে শহরের বড়হরিশপুর এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নিহতের শাশুড়ি সৈয়দা মালেকা আক্তার ও ননদ জাকিয়া ইয়াসমিন যুথিকে গ্রেফতার করা হলেও প্রধান আসামি নিহতের স্বামী মোস্তাক হোসাইন ও শ্বশুর জাকির হোসেন আত্মগোপন করেন। তাদের গ্রেফতারে মাঠে নামে জেলা পুলিশ। বিভিন্ন জায়গায় অভিযানের এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়ার নন্দিগ্রাম এলাকা থেকে প্রধান আসামি মোস্তাক ও রাজশাহীর বাঘা এলাকা থেকে নিহতের শ্বশুর জাকিরকে গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী সুমাইয়া ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে অনার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় সিজিপিএ ৪ এর মধ্যে ৩.৪৪ পয়েন্ট অর্জনকারী মেধাবী সুমাইয়া নাটোর সদর উপজেলার বলারীপাড়া মহল্লার মৃত সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে।

প্রেমের সূত্রে গত বছরের ১৪ এপ্রিল মোস্তাকের সঙ্গে সুমাইয়ার বিয়ে হয়। মোস্তাক একটি কোম্পানিতে চাকরি করলেও এখন বেকার। সুমাইয়ার বিয়ের পর নিজ বাড়ি ও মাঝে মাঝে শ্বশুর বাড়িতে থাকতো। গত সেপ্টেম্বরে তার বাবা মারা যায়। তারপরেও তার পড়ালেখার খরচ নিজ পরিবার থেকে বহন করতে চাওয়ায় সম্প্রতি সুমাইয়া বিসিএস কোচিং করতে ঢাকায় যেতে চায়। কিন্তু মোস্তাক ও তার পরিবার থেকে বাধা দেওয়া হয়। গত ১৫-২০ দিন আগে সুমাইয়ার ৬-৭ মাসের শিশুর অ্যাবরশন করায় মোস্তাক। এরপর থেকে সুমাইয়া অসুস্থ অবস্থায় বাবার বাড়ি থাকতো। গত ২-৩ দিন আগে মোস্তাক তার শাশুড়িকে ফোন করে বাড়ির কাজ করার কথা বলে সুমাইয়াকে পাঠাতে বলে। তাতে অসম্মতি জানানোয় মোস্তাক রেগে গিয়ে রাগান্বিত হয়ে সুমাইয়াকে বকা দেওয়ার পর শনিবার তাকে নিয়ে যায়। রবিবার আবার শ্বশুর বাড়ি বেড়িয়ে আসে।

সোমবার সকালে সুমাইয়ার শ্বশুর জাকির হোসেন ফোন করে সুমাইয়ার মা নুজহাতকে বলে, তার মেয়ে অসুস্থ, হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের লোকজন সবাই মিলে হাসপাতালে গিয়ে সুমাইয়ার মরদেহ দেখতে পায়। কিন্তু মোস্তাকদের পরিবারের কেউ ছিল না। এসময় তারা সুমাইয়ার গলা ও হাতে আঘাতে চিহ্ন দেখতে পায়। ঘটনাটি সদর থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। সুমাইয়া খাতুনের মা নুজহাত সুলতানা বাদী হয়ে সোমবার রাতে সদর থানায় চার জনের নামে ও অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বার্তা বাজার / ডি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর