কুড়িগ্রামে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানি বেড়ে ভাঙছে নদী

কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ আর উজানের ঢলের কারণে কুড়িগ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।ইতিমধ্যে জেলার ৪২০টি চর ও দ্বিপচর গুলোতে পানি প্রবেশ করা শুরু করেছে, যার ফলে নদী তীরবর্তি নিম্নাঞ্চলগুলোতে বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙনও।

পানি বন্দীর আশংকা করছেন ঐসব এলাকার মানুষজন। পানি বাড়ার সাথে সাথে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট, উঠতি ফসলের ক্ষেত।

বুধ ও বৃহঃবার (২৪ ও ২৫ জুন) সকালে জেলা সদরের শুলকুর বাজার,মোগলবাসা,যাত্রাপুর ও হলোখানায় ঘুরে দেখা যায় এসব এলাকায় পানি বাড়ার সাথে সাথে কিছুটা ভাঙন দেখা দিয়েছে ,লোকজন বাড়ি ঘর নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছেন।

যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন জানান, ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়ার কারণে তার ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ পানি বন্দির আশংকায় রয়েছেন।

এদিকে নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা মামুনুর রশিদ জানান,”আমাদের গ্রামে রাত থেকে দুধকুমার নদের পানি বাড়ছে,পাঁচশত পরিবার অনেকটা পানিবন্দীর আতংকে রয়েছেন। জেলায় আগামী কয়েদিনের ভিতর নিম্নঞ্চল প্লাবিত হয়ে মাঝারী ধরনের বন্যার আশংকা রয়েছে বল. জানায় কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পানি উন্নয়ন বোর্ড এর তথ্যমতে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে,সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার প্রশাসনের তরফ থেকে যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর