মানিকগঞ্জের সিংগাইরে প্রতিবেশীর সাথে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তায় বাশেঁর বেড়া দিয়ে ৩ মাস যাবত এক দিনমজুর পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে এলাকার প্রভাবশালী মোঃ আব্দুল হালিম ও তার ভাই মোঃ মগর আলীর বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে সিংগাইর উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের দক্ষিন সাহরাইল গ্রামে। ভুক্তভোগী দিনমজুর মোঃ সোহরাব হোসেন ওই এলাকার মোঃ হুকুম আলীর ছেলে এবং প্রতিপক্ষ প্রতিবেশী মুস্তির ছেলে মোঃ আব্দুল হালিম(৫৫) ও তার ছোট ভাই মোঃ মগর আলী (৪৫)।
ভুক্তভোগী মোঃ সোহরাব হোসেন বলেন, তার বাবার নামে রেকর্ডভুক্ত এসএ ২১৭৩ দাগে ৫৪ শতাংশ জায়গার মধ্যে ২৪ শতাংশ জায়গা তার বাবা বিক্রি করে দেন। ১৩ শতাংশ জায়গায় তাদের বাড়ি এবং বাকি ১৭ শতাংশ জায়গা জোড় করে প্রতিবেশী আব্দুল হালিম ও মগর আলি ভোগ দখল করে আছে।
প্রতিপক্ষের নামে আদালতে মামলা দিলে আদালত সোহরাব হোসেনের পক্ষে রায় দেন। প্রতিপক্ষ আপিল করলে আবারো তাদের পক্ষে রায় দেন আদালত। প্রতিপক্ষ এলাকায় প্রভাবশালী হওয়াতে জমির দখল না পাওয়ায় আবারও আদালতে উচ্ছেদ মামলা দেয় ভুক্তভোগী। এরই মধ্যে প্রতিপক্ষ উচ্ছেদ মামলার রায় দেয়ার কথাশুনে সোহরাবের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে বাঁশের বেড়া দেয়।
এতে তিনি গরু, ছাগল ও সাংসারিক কাজসহ চলাফেরায় চরম দূর্ভোগে পড়ে নিরীহ দিনমজুর পরিবারটি। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কাছে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পায়নি দিনমজুর পরিবারটি। তাই প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে ভুক্তভোগী পরিবার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আব্দুল হালিমের বাড়ির ওপর দিয়ে ভুক্তভোগী সোহরাবের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা পারিবারিক কলহের জেড়ে ৩ মাস যাবৎ বাশেঁর বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়াতে নিরীহ দিনমজুর ওই পরিবারটি পাশের বাড়ির ব্যক্তিদের হাতে জিম্মি হয়ে রয়েছে। ৩ মাসেও কোন বিচার না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পরেন।
প্রতিপক্ষ মো.আব্দুল হালিম বেড়া দেয়া অন্যায় হয়েছে স্বীকার করে বলেন, সোহরাব মাঝে মধ্যে বিবাহ করে। বউকে মারধর করে। আমরা কিছু বললে আমাদের পরিবারসহ সবাইকে গালি-গালাজ করে এ জন্য বেড়া দিয়েছি। আপনারা আসছেন বেড়া ওঠাই দিতেছি। জমির মামলার বিষয় জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন- আমাদের কেনা সম্পত্তি। আদালতে মামলা চলছে। আদালতে যা হয় হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ জাফর আলী বলেন, আপনার কাছ থেকে বিষয়টি শুনলাম। আমি সকালে গিয়ে দেখব।
সায়েস্তা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মোসলেম উদ্দিন চোকদার বলেন, যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করা এটা অন্যায় কাজ। আমি বিষয়টি সোহরাবের কাছে শুনে হালিমকে ডেকে এনে বেড়া তুলে দিতে বলেছি। ও আমার কথা শুনছে না।