আদালত বন্ধ, ওপরের নির্দেশে চলছে কলাপাড়া নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত!

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশের সকল আদালত বন্ধ থাকলেও জনস্বার্থে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পাশাপাশি সরকারী গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে শুধু চলমান রয়েছে ভার্চুয়াল আদালত। যাতে মানবিক বিবেচনায় হাজতী আসামীর জামিন শুনানি চলছে। এছাড়া দেশের কোথাও কোন আদালতের কার্যক্রম চলার তথ্য জানা না গেলেও পটুয়াখালীর কলাপাড়া নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ২৫ জুন বৃহস্পতিবার চলেছে শুধু একটি মামলার কার্যক্রম।

তবে এনিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বললেন করোনা পরিস্থিতিতে সকল নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত বন্ধ রয়েছে। কলাপাড়া নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত চলার বিষয়টি আমি অবগত নই, জেনে বলতে পারবো। তবে এনিয়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মাদ শহিদুল হক ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

এদিকে দেশের সকল আদালত বন্ধ থাকার পরও কলাপাড়া নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৪ঠা জুন দায়েরকৃত মামলায় বৃহস্পতিবার দুপুরে বিবাদী পক্ষে শুনানীতে অংশ নিয়েছেন জেলা বারের সভাপতি, সম্পাদকসহ প্রভাবশালী একাধিক আইনজীবী। বাদী পক্ষে শুনানীতে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালী আইনজীবী। আর ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪, ১৪৫ ধারার এ মামলার শুনানী ও আদেশ শুনতে আদালত চত্বরে উপস্থিত ছিল পক্ষ বিপক্ষের কয়েকশ’ মানুষ। এতে স্বাস্থ্যবিধি মানা তো দূরের কথা উভয় পক্ষের সংঘর্ষ ঠেকাতে মোতায়েন রাখতে হয়েছে পুলিশ। আর এ নিয়ে আদালত চত্বরে শোনা গেছে, উপরের নির্দেশে চলছে শুধু কলাপাড়া নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত!

এর আগে কলাপাড়া পৌর শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রকি ৪ জুন পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন ধানখালীর লেমুপাড়া মৌজার জমি নিয়ে সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী শামিমুজ্জামান কাশেমসহ ৭ জনের নামে কলাপাড়া নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে এমপি ১৮/২০২০ মামলা দায়ের করেন। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও কলাপাড়া ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মাদ শহিদুল হক মামলাটি আমলে নিয়ে ওসি কলাপাড়াকে শান্তি শৃংখলা রক্ষার জন্য ১৪৪ ধারা জারির নির্দেশনাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেন। এছাড়া ভূমির দখল সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিতে ধানখালী তহশিলকে নির্দেশ প্রদান মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন ২৫ জুন।

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো: আবু জাফর বলেন, ‘অদ্য মামলার ধার্য তারিখে আদালত বাদী ও বিবাদী পক্ষের শুনানী শোনেন। বাদী পক্ষে দখল সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আপত্তিসহ এসি ল্যান্ডকে পুন:তদন্তের আদেশ দিতে আবেদন জানানো হয়েছে। আর বিবাদী পক্ষে জমির কাগজ পত্র সঠিক ও উচ্চ আদালতের আদেশ থাকায় মামলাটি আইন অনুযায়ী চলার সুযোগ নেই এবং বিবাদীদের অব্যাহতির জন্য নিবেদন করা হয়।’

বেঞ্চ সহকারী জাফর আরও বলেন, ‘শুনানীর পর বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আদেশের জন্য রাখেন এবং মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারন করেন আগামী ৪ঠা জুলাই ২০২০।’

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জিএম সরফরাজ বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত বন্ধ আছে। আমরা শুধু মাত্র জামিন যোগ্য অপরাধের মামলাগুলো মানবিক কারনে শুনছি। যে মামলাগুলো ইতিপূর্বে দায়ের হয়েছে।’

জিএম সরফরাজ আরও বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত বন্ধ থাকার পরও কলাপাড়ায় নতুন মামলা ও অদ্য মামলার শুনানীর বিষয়টি আমি অবগত নই। আমি জেনে বিষয়টি বলতে পারবো।’

বার্তা বাজার / ডি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর