করোনা দুর্যোগে সাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধের কারণে দুশ্চিন্তায় কক্সবাজারের দেড় লক্ষাধিক জেলে। নিবন্ধিত ৪৮ হাজার জেলে খাদ্য সহায়তার আওতায় আসলেও বাকিরা পান না কোনো সরকারি সহায়তা।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, করোনা পরিস্থিতিতে অনিবন্ধিত জেলেদেরও সরকারি সহায়তা দেয়া হোক। অবশ্য, অনিবন্ধিত জেলেদেরও সহযোগিতার জন্য সরকারের কাছে চাহিদা পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
সাগরে ৬৫ দিন মাছ শিকার বন্ধ। তাই কক্সবাজার উপকূলে শত শত মাছ ধরার ট্রলার নোঙর করা। আর এসব ট্রলারে বসে অলস সময় পার করছেন জেলেরা। তার ওপর করোনা পরিস্থিতি। সব মিলিয়ে সবারই চোখে মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ।
অনেকেই নিবন্ধিত জেলে নন, তাই পান না সরকারি খাদ্য সহায়তা। আবার যাদের জেলে কার্ড রয়েছে তাদের অনেকের অভিযোগ খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন না। তার উপর নতুন করে যুক্ত হয়েছে করোনা পরিস্থিতি।
জেলেদের একজন বলেন, ‘১৬ বছরের মধ্যে কোনো জেলে কার্ড পাইনি।’
আরেক জেলে বলেন, ‘গত বছরও জেলে কার্ড পাইনি এ বছরও পাব কিনা জানি না।’
আরেকজন জেলে বলেন, ‘কোনো মাঝি অথবা কোনো স্টাফ ১০ কেজি চাল অথবা ১০ টাকা সরকার থেকে পেয়েছি শুনিনি।’
নিবন্ধিত না হওয়ায় জেলার প্রায় দেড় লক্ষাধিক জেলে সরকারি খাদ্য সহায়তা পান না বলে দাবি করেন কক্সবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ সভাপতি জয়নাল আবেদীন।
তিনি বলেন, ‘একদিকে করোনা আরেক দিকে ৬৫ দিন বন্ধ। সব মিলে হাহাকার।’
অবশ্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানালেন, অনিবন্ধিত জেলেরাও যাতে সরকারি সহায়তা পায় তার জন্য সরকারের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হবে।
তিনি বলেন, ‘গত বছর আমরা বিভিন্ন এনজিওর মাধ্যমে জেলেদের সহায়তা করার চেষ্টা করেছিলাম এবারও আমাদের সেই চেষ্টা থাকবে।’
কক্সবাজারের ৮টি উপজেলায় ছোট-বড় মাছ ধরার ট্রলার রয়েছে ১০ হাজারের বেশি। এসব ট্রলারে দুই লক্ষাধিক জেলে সাগরে মাছ শিকার করেন।
সময় টিভি
বার্তাবাজার/কে.জে.পি