টেকনাফে প্রকৌশলীকে ম্যানেজ করে স্থানীয় পাহাড়ী বালু-পাথরে নির্মান হচ্ছে স্কুল ভবন

কক্সবাজারের টেকনাফে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র অর্থায়নে হ্নীলা ইউনিয়নের আলী আকবর পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মান কাজে প্রকৌশলীর প্রশ্রয়ে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশের ক্ষতি সাধন করে স্থানীয় নিম্নমানের পাহাড়ী বালি-পাথর ব্যবহারের কোন নিয়ম নেই বলে দাবী করেন নির্বাহী প্রকৌশলী।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, চলতি বছর জানুয়ারী মাসে টেকনাফ এলজিইডির অর্থায়নে ১ কোটি ২ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকার স্কুল ভবন নির্মান প্রকল্পটি শামীম কন্সট্রাকশন নামে চকরিয়ার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্ক অর্ডার দেয়া হয়। আগামী অক্টোবরে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে কাজের ওয়ার্ক আউট নিয়ে শামীম কন্সট্রাকশন নিয়ম বহির্ভূত ভাবে (এলজিইডি)’র টেকনাফ উপজেলা প্রকৌশলীকে ম্যানেজ করে স্থানীয় এক সরকারী কর্মকর্তার কাছে কাজটি সাব-কন্ট্রাক্টে বিক্রি করে দেয়।

ছবি:বার্তাবাজার।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, ভবণটি নির্মাণ কাজে চুক্তি অনুযায়ী মানসম্মত পাথর ব্যবহার না করে স্থানীয় পাহাড়ী পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও (২.৫ এফএম) গ্রেডের মোটা বালু ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও ব্যবহার করা হচ্ছে স্থানীয় বালু মহালের (০.৯৮ এফএম) গ্রেডের চিকন বালু। এদিকে পাহাড়ী পাথর ব্যবহারে পরিবেশের ক্ষতিসহ ভবনটি টেকসই হবে না বলে মতামত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ছবি:বার্তাবাজার।

অপরদিকে ভবণটি নির্মানে বেইজ ও বীম ঢালাই কাজের সময় উপজেলা এলজিইডি অফিসের কোন প্রকৌশলী উপস্থিত না থেকে অফিসের দু’জন কর্মচারীর নাম মাত্র উপস্থিতে এসব কাজ শেষ হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারী প্রতিষ্টান শামীম কন্সট্রাকশন এর স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান সাব কন্ট্রাকে কাজ বিক্রি করে দেয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বালু-পাথর যেখানকার হোক, মানসম্মত হয় তাহলে কোন আপত্তি নেই।

ছবি:বার্তাবাজার।

উপজেলা প্রকৌশলী আনোয়ার বার্তা বাজারকে জানান, পাহাড়ী পাথর ও স্থানীয় বালু বলে কথা নেই, যেটা সিডিউলের সাথে মিল থাকে সেটা ব্যবহার হলেই হলো। এছাড়া সিডিউলে কোথাও উল্লেখ নেই মূল ঠিকাদার সাব-কন্ট্রাকে কাজ করাতে পারবে না। সুতরাং কাজ যেই করুক তাতে আপত্তি নেই। এলজিইডি কাজ বুঝে পেলেই হলো।

অপরদিকে প্রকৌশলীর বক্তব্যের বিরোধীতা করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদারের দাবী, আমরাও এলজিইডির কাজ করি। তবে আমাদের কাজে মান ঠিক থাকলেও কোন ভাবেই স্থানীয় পাথর ব্যবহার করতে দেয়া হয়নি।

এদিকে, স্কুল ভবনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্পে অনিয়মে অসন্তোষ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে। তবে সাব-কন্ট্রাক্টর এলাকার প্রভাবশালী এবং স্থানীয় উপজেলার সরকারী কর্মকর্তা হওয়ায় এবিষয়ে ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে নারাজ। কিন্তু এব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সরেজমিন পরিদর্শন করে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান তারা।

অপরদিকে, প্রকৌশলীর বক্তব্য নিতে ফোন করার পর প্রকৌশলী সেই সাব-ঠিকাদারকে প্রতিবেদকের নাম্বার সর্বরাহ করেন। পরে সাব-ঠিকাদার প্রতিবেদককে মুটোফোনে প্রকৌশলীকে ফোন করার কারণ জানতে চান এবং হুমকি মূলক আচর করেন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সরকারী চাকুরীবিধি অনুযায়ী কোন অবস্থাতেই একজন সরকারী কর্মচারী বা কর্মকর্তা ঠিকাদারী কাজের সাথে জড়িত থাকতে পারবেন না।

এসব বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)’র কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুর রহমান জানান, অভিযোগের বিষয়ে খতিয়ে দেখা হবে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অন্য কাউকে দিয়ে কাজ করালেও দায়বদ্ধতা এড়ানোর কোন সুযোগ নেই।

কে.এ.স/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর