টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পেকুয়া-অভিরামপুর সড়কের ইনথখাচালা নামক স্থানে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া একটি ব্রিজ ভেঙ্গে খাদে পড়ে গেছে। এতে গ্রামীণ ওই সড়কটি দিয়ে পাহাড়ী অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
রোববার রাতে বালু ভর্তি একটি ট্রাক(মাহিন্দ্র) ব্রিজের ওপর উঠলে ব্রিজটি ভেঙে ট্রাকসহ নিচে পড়ে যায়।এঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
জানা গেছে, পেকুয়া-অভিরামপুর সড়কের ইনথখাচালায় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ১০ ফুট প্রস্থ্য ব্রিজটি গত প্রায় তিন যুগ আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর নির্মাণ করে। ব্রিজটি দিয়ে উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নের প্রায় ৬০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ও কয়েকশত যানবাহন প্রতিদিন চলাচল করে থাকে।
এই সড়ক দিয়ে পাহাড়ী ওই অঞ্চলের সাথে পার্শ্ববর্তী সখিপুর ও কালিয়াকৈর, টাঙ্গাইল সদর, ফুলবাড়িয়া, শ্রীপুর উপজেলার সাথে সরাসরি যোগাযোগের একটি সহজ মাধ্যম। এছাড়া পাহাড়ী ওই অঞ্চলের মানুষ ফল, সবজী, আম, কাঠালসহ তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করে থাকে।
কিন্তু গত কয়েক বছর যাবত ব্রিজটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়লেও স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর তা মেরামতের কোন উদ্যোগ নেয়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এদিকে গতকাল রোববার রাত আটটার দিকে বালু ভর্তি একটি ট্রাক (মাহিন্দ্র) ব্রিজটি পার হওয়ার সময় ট্রাকসহ ব্রিজ ভেঙে খাদে পড়ে যায়।
এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও ওই এলাকার কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে কাঁঠাল ও বেগুন নিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন। শুধু তাই নয় সাধারণ মানুষও ওই সড়কটি দিয়ে এখন চলাচল করতে পারছে না বলে জানা গেছে। ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় উভয় পাশের মানুষ দুই কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করছে।
অভিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা অমিত রাজ জানান এই সড়ক হয়ে এলাকার মানুষ তাদের উৎপাদিত পণ্য মির্জাপুর, গোড়াই, সখিপুর, বাসাইল, টাঙ্গাইল, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, ফুলবাড়িয়া, শ্রীপুর, মাওনাচৌরাস্তাসহ বিভিন্ন জায়গায় বাজারজাত করে থাকে।কিন্তু ব্রিজ ভেঙে পড়ায় তা এখন পচে যাবে বলে তিনি জানান।
এলাকার কৃষক শামুউদ্দিন বলেন ব্রিজটি উপজেলা ও জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক। এই এলাকার মানুষের জীবন জীবিকার সঙ্গে জড়িত।এই ব্রিজ ভেঙে পড়ায় বর্তমানে আম, কাঁঠাল ও বেগুন বাজারজাত করা নিয়ে তার বিপাকে পড়েছেন।
বাঁশতৈল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আজাহারুল ইসলাম ব্রিজটি দ্রুত নির্মানের জন্য স্থানীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াারম্যান আতিকুর রহমান মিল্টন ব্রিজ ভেঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার কথা স্বীকার করে বলেন, জনসাধারণের চলাচলের জন্য পরিষদের পক্ষ থেকে বাঁশের সাকো নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আরিফুর রহমান জানান, গত কয়েক বছর ধরে ব্রিজটি জরাজীর্ণ থাকায় পুননির্মাণের আবেদন করা হয়েছে।
কে.এ.স/বার্তাবাজার