নদী ভাঙনে হুমকির মুখে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ৫ গ্রাম

যমুনা নদীর আগ্রাসী থাবায় সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলে আবারও ভাঙনের তাণ্ডবলীলা শুরু হয়েছে। বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, তাঁত কারখানা, কবরস্থান, মসজিদ-মাদ্রাসা ও পাকা সড়ক।

এতে হুমকির মুখে পড়েছে ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ খাষপুখুরিয়া ও বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ৫টি গ্রাম। পাউবো ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানান, এ বছর যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির পর থেকে চৌহালীর জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ থেকে খাষপুখুরিয়া ও বাঘুটিয়া ইউপির চরবিনানই-ভূতের মোড় এলাকা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন চলছে।

গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে দক্ষিণ খাষপুখুরিয়া, মধ্য খাষপুখুরিয়া ও মিটুয়ানী এবং রেহাইপুখুরিয়া নতুন পাড়া ও চরবিনানই এলাকার শতাধিক বসতভিটা, ঘরবাড়ি, ৭টি তাঁত কারখানা, ৩টি মসজিদ ও মাদ্রাসাসহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রায় দেড় কিলোমিটার পাকা সড়ক নদীতে বিলীন হয়েছে।

এতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের উপজেলা সদরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অন্য দিকে একই ইউনিয়নের চরাঞ্চলেও দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন,বাঘুটিয়া ইউনিয়নের হাটাইল চর থেকে খাষপুকুরিয়া ইউনিয়নের দেলদারপুর চর পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার জুরে ভাঙন চলছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে, ২০ টি বসত বাড়ি, ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়।

হুমকির মুখে ঘুশুরিয়া ও হিজুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি মসজিদ, একটি মাদ্রাসা, ৫ শতাধিক বসত বাড়ি। এসব এলাকার অধিবাসীরা প্রয়োজনীয় কাজে উপজেলা সদরে যাতায়াতে বিকল্প হিসেবে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা ঘুরে অতিরিক্ত ভাড়া ও দ্বিগুণ সময় নষ্ট করে যাতায়াত করছে।

এ বিষয়ে খাষপুখুরিয়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক আবু দাউদ সরকার, বেলাল হোসেন ও চরসলিমাবাদ গ্রামের সমাজসেবক আব্দুল রব মাসুদ জানান, নদীতে পানি বাড়ায় প্রচণ্ড স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের কারণে একের পর এক ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, রাস্তা, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।

এখন জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ না করা হলে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি, দেওয়ানগঞ্জ বাজার, সেতু, তাঁতী পাড়া, চেয়ারম্যান বাড়িসহ বহু শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ভাঙনের কবলে পড়বে।

এ ব্যাপারে চৌহালীর খাষপুকুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সরকার জানান, পানি বৃদ্ধির পর থেকে দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকায় নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি হারানো পরিবারদের তালিকা করে উপজেলা প্রশাসনকে দেয়া হচ্ছে। তবে দ্রুত স্থায়ী তীর সংরক্ষণ কাজ না করলে অস্তিত্ব বিলীন হবে চৌহালীর দক্ষিণাঞ্চলের। এ চিন্তা ও হতাশায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষ।

এদিকে চৌহালী উপজেলার ইউএনও দেওয়ান মওদুদ আহমেদ মুঠোফোনে বলছেন, নদী ভাঙনের রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পাউবোসহ ঊর্ধ্বতন মহলকে বিস্তারিত অবগত করা হয়েছে। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, ভাঙনরোধে জরুরি কাজের জন্য ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। স্থায়ী তীর সংরক্ষণ কাজ করা হলে আশা করি এলাকা ভাঙন মুক্ত হবে।

কে.এ.স/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর