করোনার প্রভাবে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। কোন পড়াশুনা নেই। কোভিড-১৯ বন্দি করে ফেলেছে শিশু-কিশোরদের। ঘরে বন্দি থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে উঠেছে শিশুরা।
সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার আকাশে উড়ছে নানা রঙের ঘুড়ি। মুক্ত বাতাসে বেড়াতে না পেরে এখন তারা মনোনিবেশ করেছে মোবাইল ও আকাশে ঘুড়ি ওড়ানোর ওপর। বন্দিদশা থেকে মুক্ত হতে না পারলেও আকাশে ঘুড়ি ওড়াতে পেরেই খুশি এ সব শিশু কিশোররা।
শিশু-কিশোররা বিকেল হলেই খোলা মাঠে মুক্ত বাতাসে ঘুড়ি ওড়াতে মেতে ওঠে। অভিভাবকরা ঘরে বেঁধে রাখতে শিশুদের হাতে তুলে দিয়েছে লাটাই আর ঘুড়ি।
শিশুদের বাইরে যাবার কথা ভুলিয়ে রাখতে অভিভাবকরা খোলা মাঠে শিশুদের ঘুড়ি উড়াতে উৎসাহ দিচ্ছেন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শিশু-কিশোররা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ও মোবাইলে গেম খেলার মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ রাখে। অভিভাবকরা তাদের মোবাইলের স্ক্রীন থেকে কিছুতেই সরিয়ে আনতে পারছেনা।
অভিভাবকরা জানে সন্তানরা গৃহবন্দি থেকে হাঁপিয়ে উঠেছে। বিকেলে ঘরের বাইরে যাবার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। সেই আবদার থামাতে তাদের হাতে তুলে দিয়েছে লাটাই আর ঘুড়ি। সময় কাটানোর একটি উত্তম পন্থা ঘুড়ি ওড়ানো।
শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানোর আবদারের কথা জানতে পেরে বাজারের কাঠ মিস্ত্রি গুলো আসবাবপত্র তৈরি বন্ধ করে লাটাই ও ঘুড়ি বিক্রি শুরু করেছে। রায়গঞ্জ উপজেলার ব্রম্মগাছা বাজারের কাঠ মিস্ত্রী গুলো লাটাই ও ঘুড়ি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে।
অত্র উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের কাঠ মিস্ত্রী মো. বিরু শেখ জানান, করোনা ভাইরাসের কারনে কাঠের খাট, চেয়ার, আলমারিসহ নানা ধরনের ফার্নিচার বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। হঠাৎ করে একদিন এক শিশু লাটাই তৈরি করতে তার অভিভাবককে নিয়ে আসে। আমি তাকে ৫০ টাকায় নাটাই তৈরি করে দেই। এরপর থেকে লাটাই ও ঘুড়ির চাহিদা বেড়ে যায়। ৫০ টাকার একটি লাটাই ৫০ টাকা থেকে এক লাফে ৮০ টাকায় উঠে যায়। এদিকে স্কুল বন্ধ থাকায় শিশু কিশোর ও অভিভাবকরা লাটাই ও ঘুড়ি কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
তিনি আরও জানান, জেলায় লকডাউন ঘোষণার পর থেকে অধিকাংশ কাঠ মিস্ত্রি শুধু লাটাই বিক্রি করেই সংসার চালাচ্ছে। তারা এখন পাইকারি লাটাই বিক্রি করছেন ৬৫ টাকা করে। খুচরায় ও এসব লাটাই বিক্রি হচ্ছে। অভিভাবকদের কাছে লাটাই এর দাম বড় নয়। সন্তানদের ঘরে আবদ্ধ রাখাই মূল লক্ষ্য।
বার্তাবাজার/এমকে