বছরের কোন না কোন অনুষ্ঠানের মাইকিং প্রচার থাকতো অবধারিত। থাকতো শীত মৌসুমে ওয়াজ-মাহফিল, রাজনৈতিক মাঠের সভা-সেমিনার কিংবা বিক্ষোভ সভা-সমাবেশ। এখন আর তা দেখা যাচ্ছেনা। শুনা যাচ্ছেনা মৃত্যু ব্যক্তির শোক সংবাদও।
মহামারি কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের প্রাদূর্ভাবের ফলে ভেস্তে গেছে এসব প্রচার প্রচারণা আর মাইকিং। অদৃশ্য হয়ে যাওয়ায় ভাটা পড়ে যায় মাইকিং শিল্পের। এ শিল্পের সাথে জড়িত কয়েক হাজার সদস্য অনেকটাই বেকার হয়ে পড়েছে। মাইকিং প্রচার ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে অনেকেই।
‘বার্তাবাজার’ এর অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা গেছে, করোনার কারণে লোক সমাগম নিষেধ থাকায় হচ্ছেনা কোন সভা-সমাবেশ। স্বল্প লোক দিয়ে জানাযায় শেষ করতে হবে। তাই নেই মৃত ব্যক্তির জন্য শোক সংবাদের মাইকিং। সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের পর চলছে লকডাউন, তাই নেই হোটেল, রেস্টুরেন্ট কিংবা রেস্তোরা প্রচার মাইংকিং।
মহামারি করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাব ঠেকাতে চলতি বছরের গত ১৯ মার্চ ওয়াজ মাহফিল, তীর্থযাত্রাসহ সব ধরণের সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সমাবেশ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান বাড়ী পালনেরও নির্দেশনা ছিল ইসালামিক ফাউন্ডেশনের। এরপর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় রাস্তা-ঘাটে গ্রামে গ্রামে সব ধরণের মাইকিং প্রচার। এখন আর শুনা যায়না পাশ্ববর্তী কিংবা স্বজনদের মৃত্যুর সংবাদ বলা হয়না আর একটি শোক সংবাদ কিংবা “ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাহি রাজিউন”।

প্রতিদিন দু-একটা মৃত্যুর সংবাদ থাকতো, মৃত্যু ব্যক্তির দাফনে অংশ নেয়া হতো শত শত মানুষ। করোনার আতংকে তাও চোখে পড়েনা আর। তবে মানুষ যেকোন মৃত্যুর সংবাদ শুনলেই কৌতুহল বসত জানার আগ্রহ সৃষ্টি হয় মৃত ব্যক্তি কি করোনায় মারা গেছেন কিনা? সেজন্যই হয়তো করোনা আতংকে শোকসংবাদ আগের মতো আর প্রচার হচ্ছে না।
পাকুন্দিয়া বাজারের মাইক প্রচার ব্যবসার সাথে জড়িত জাকির হোসেন, রফিক মিয়া, শাহজাহান, বাবুল মিয়া আবুল হাসেমের সাথে কথা হয় বার্তা বাজারের।
তারা জানান, বিভিন্ন দিনে অন্তত একটি করে মৃত্যু ব্যক্তির মাইংকিং করে কিছু আয় হতো। এখন তা আর হচ্ছেনা ফলে বেকারত্ব জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের।
এসব করোনাভাইরাসের সমাপ্তি ঘটে আগামীর দিনে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে এবং বেকারত্ব কেটে মাইকিং প্রচারে আবারো নিবেদিত থাকবে। এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
বার্তা বাজার/সি.কে