সাবেক এক মন্ত্রীর মদদে ইউনানী বোর্ডের সাবেক রেজিস্টার্ড হারুনের তুঘলুকি কাণ্ড

জামাতি হারুনুর রশিদ নামক একজন ভূয়া রেজিস্ট্রার দিয়ে চলছে বাংলাদেশ ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল বোর্ড! নেপথ্যে একজন সাবেক মন্ত্রীর মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, সরকারের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল বোর্ডে চলছে তুঘলুকি কারবার ও সরকারি অনুদান হরিলুটের এক মহোৎসব।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে ২০১৫ সালে চাকরি হতে অবসরে যাওয়া রেজিস্ট্রার হারুনুর রশিদ সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে আজ অব্দি নিয়মিত অফিসে বসে সরকারি অনুদান ও সুযোগ সুবিধা হরিলুটের মহোৎসবে মেতেছেন। বোর্ডের অধীনস্ত বিভিন্ন কলেজকে অনুদান প্রদান না করে তিনি নিজেই তা পকেটস্থ করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বোর্ডের অধীনস্ত একটি কলেজের অধ্যক্ষ অভিযোগ করেছেন, ভূয়া রেজিস্ট্রার হারুনকে কমিশন না দিলে অনুদান পাওয়া যায় না। বোর্ডের একাধিক সদস্য অভিযোগ করেন জামাতের রোকন হারুনের অযাচিত হস্তক্ষেপে বোর্ডের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব আলি নূর ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, অবসরে যাওয়ার পর কেউ যদি অফিস করে তবে তা বেআইনি। আমরা শীঘ্রই এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বোর্ডের কার্যক্রমে পরামর্শ প্রদান করে থাকেন!

এ বিষয়ে জানতে রোববার হারুনকে ফোন দিলে তিনি জানান, আমি কোন দায়িত্বে নেই। তবে ঠিক তার মিনিট পনেরো পরেই বোর্ড মিটিং এ তিনি উপস্থিত হন বলে জানা গেছে। তার সাক্ষাৎকারের জন্য সময় চাইলে তিনি কোন সাক্ষাৎকার দিবেন না বলেও জানান এবং পরে কল দিলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

বোর্ডের চেয়ারম্যান সাবেক রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হারুনুর রশিদকে তিনিই অনুরোধ করে মাঝে মাঝে অফিসে আসতে বলেন। একটি সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা। এ বিষয়ে ইতিপূর্বে খোঁজ খবর নেয়া শুরু করলে সাবেক রেলপথ মন্ত্রীর তদবিরে তা থমকে যায় বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

অপরদিকে বোর্ডের সাধারণ কর্মচারী হতে শুরু করে বোর্ড সদস্যদের অনেকেই এই ভূয়া রেজিস্ট্রারের অবৈধ কর্মকান্ড হতে নিস্তার পেতে বারবার যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রতিকার না পাওয়ায় বোর্ডের কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে।

বার্তা বাজার / ডি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর