বাবার ছায়ায় পৃথিবী

“বাবা” পৃথিবীর সবচেয়ে আস্থার,সবচেয়ে আনন্দের এবং সবচেয়ে নিরাপদ একটি শব্দ।বটগাছের ছায়ায় যেমন প্রাণ জুড়ায় তেমনি বাবার ছায়ায় সন্তানের প্রাণ জুড়ায় বাবা নামক শব্দটিতে।সন্তানদের কাছে বাবাদের থাকেনা কোনো চাহিদা,কোনো আবদার।কেবল একটামাত্র আবদার বাবারা সব সময়ই করে থাকেন সন্তানদের কাছে আর সেটা হলো-তাঁর সন্তানরা যেনো মানুষ হয়।ন্যায়নীতি অবিচল রেখে জীবনের আঁকাবাকা পথগুলো অতিক্রম করে।
আর এটা সব আদর্শ বাবাদের জীবনের একমাত্র চাওয়া থাকে।

আমার বাবা ছিলেন একজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা।সারাজীবন তাঁকে যে ন্যায়নীতি,আদর্শ নিয়ে চলতে দেখেছি সে ন্যায়নীতি,আদর্শ আজও আমরা বুকে লালন করে চলি।

আমি তখন ছোট।আমার বাবা ছিলেন নারায়ণগঞ্জের মেজেস্ট্রেট।বিচারকের আসনে যখন আমি তাঁকে দেখতাম আমার ছোট মনে যে ভালোলাগার কাঁপন অনুভূত হতো এটা আর কিছুতে অনুভব করতাম না।সততার সাথে তাঁর বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া,সে সময়ের আলোচিত রিমা হত্যা মামলা খুকু মনিরের বিচার পদ্ধতি যেভাবে তিনি দক্ষতার সাথে পালন করেছিলেন সেটা আজও আমাকে আন্দোলিত করে।

তিনি তাঁর চাকরি জীবনে সত্য ও ন্যায়ের ওপর অবিচল থেকে পালন করেছেন তাঁর প্রতিটি দায়িত্ব।উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্রের প্রতিটি মানুষ তাঁকে যে সন্মান দিয়েছেন সে সন্মান আমরা এখনো মাথার মুকুট হিসেবে ধারণ করি হৃদয়ে।

ন্যায়নীতি সততার কারণে তাঁকে গুনতে হয়েছে জীবনে অসংখ্য ত্যাগ তিতিক্ষা।খুব কষ্টে কেটেছে সংসার জীবন।তবু কখনো বিচলিত হতে দেখিনি তাঁকে।
কষ্ট করে মানুষ করেছেন আমাদের।নিজে ঈদে জামা,জুতো না নিয়ে আমাদের পড়িয়েছেন।মাছের মাথাটা বা মুরগীর রান টা সবসময় তুলে দিয়েছেন আমাদের পাতে।

কখনো কোনো বিপদগ্রস্ত মানুষ এসে হাত পেতে ফেরত যায়নি তাঁর কাছে থেকে।নিজে কষ্ট করে ধার দেনা করে মানুষকে উপকার করতে দেখেছি আজীবন।কোনো মানুষ এসে কখনো না খেয়ে ফেরত যায়নি আমার বাবার কাছে থেকে।প্রতিটি মানুষ কে সন্মান দিয়েছেন তিনি খোদার খাস মেহমান হিসেবে।

এই যে,বাবার কাছে থেকে পাওয়া ছোট ছোট শিক্ষা এই শিক্ষাগুলো বাবা ছাড়া আর কেবা দিতে পারে জীবনে।বাবারা বুঝি এমনই হয়।এতো ভালোবাসা,জীবন সম্পর্কে সুশৃঙ্খল এবং সুষ্ঠু শিক্ষাতো বাবারাই তাঁর সন্তানদের দিয়ে থাকেন।

জীবিকার তাগিদে আমার বাবাকে যেতে হতো মফস্বলে ।আম্মুর হাত ধরে কমলাপুরে যেতাম তাঁকে বিদায় দিতে।ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার মুহুর্তে তাঁকে ছেড়ে থাকতে হবে এ কথা চিন্তা করেই অজ্ঞান হয়ে যেতাম।মাথায় পানি দিয়ে যখন জ্ঞান ফেরানো হয়েছিলো তখন দেখি বাবা আমার পাশে!কি যে অনুভূতি হয়েছিলো সেদিন পৃথিবীর কাউকে সে অনুভূতির কথা বলে বোঝানো যাবেনা।অথচ এখন আমি তাঁকে ছেড়ে দিব্বি সংসার করছি।এখন আমার দিন কেটে যায়,রাত কেটে যায় তাঁকে ছাড়া!

বাবা,তুমি ভালো থাকো বাবা।বেঁচে থাকো অগণিত বছর।পৃথিবীর সকল বাবার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসা।কোনো বিশেষ দিবসে কেবল নয় বাবারা বেঁচে থাকুক প্রতিটি দিন প্রতটি মুহূর্তে প্রতিটি সন্তানের হৃদয়ে।

বৃদ্ধাশ্রম নয় বাবাদের জায়গা হউক সন্তান দের অন্তরে।বাবার অবদান,বাবার ঋণ গায়ের চামড়া কেটে জুতা বানিয়ে দিলেও শোধ হবার নয়।বাবা দিবসে কেবল নয় বাবা তুমি বেঁচে থাকো অনন্ত কাল আমাদের মাঝে তোমার ন্যায়নীতির ছায়া হয়ে।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর