জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে যে সংখ্যক যক্ষ্মা রোগী হওয়ার কথা পরীক্ষার আওতায় আসছে তার অর্ধেক। মাঠ পর্যায় থেকে নমুনা সংগ্রহের কার্যক্রম কাগজপত্রে দেখানো হলেও বাস্তবে শনাক্তের আওতায় আসছে না যক্ষ্মা রোগী।
এতে শনাক্তবিহীন অবস্থায় যক্ষ্মার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। উদ্ধুত পরিস্থিতি যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ময়মনসিংহের ঈশ^রগঞ্জে। চলতি মাসে জটিলতম যক্ষ্মা এমডিআরএ আক্রান্ত হয়েছেন দুই ব্যক্তি।
উপজেলায় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে কাজ করছে ডেমিয়েন ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন। স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে সমন্বয় করে সংগঠনটি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি মাসে জটিলতম যক্ষ্মা এমডিআরএ দুই ব্যক্তি আক্রান্ত হওয়ায় বিষয়টি ভাবনায় ফেলেছে সকলকে।
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ডেমিয়েন ফাউন্ডেশন ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ শনিবার একটি সভার আয়োজন করে। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় ওই সভা। এতে উঠে আসে উপজেলাটির যক্ষ্মার সংক্রমণ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চিত্র।
স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শনিবার (২০ জুন ২০২০) পর্যন্ত যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬২ জন। এর মধ্যে চলতি মাসে ২ জন জটিলতম যক্ষ্মা এমডিআরএ আক্রান্ত হয়েছেন। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১২৭ জন। এর মধ্যে ৭২ জন পুরুষ ও ৫৫ জন নারী রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৫ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে দুই শিশু, ১৫ থেকে ২৪ বছরের ২০ জন, ২৫ থেকে ৩৪ বছরের ১৫ জন, ৩৫ থেকে ৪৪ বছরের ২১ জন, ৪৫ থেকে ৫৪ বছরের ১৯ জন, ৫৫ থেকে ৬৪ বছরের ২৭ জন এবং ৬৫ বছরের উপরে শনাক্ত রোগী ২৩ জন।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে উপজেলাটিতে বছরে প্রায় ৯০০ ব্যক্তি যক্ষ্মা রোগের আক্রান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে শনাক্ত হচ্ছে তার অর্ধেক। ২০১৯ সালে সালে ৪৬৯ জন, ২০১৮ সালে ৪৫৯ জন, ২০১৭ সালে ৪৯৮ জন, ২০১৬ সালে ৪৫৬ জন রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসার আওতায় আসে। এর মধ্যে কাগজপত্রে ২০১৮ সালে ওয়ার্ড পর্যায়ে যক্ষ্মার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা কার্যক্রম ও নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম চালু করে। কিন্তু বাস্তবে তা ফলপ্রসূ হয়নি।
উপজেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ সভাপতি নূরুল ইসলাম খান সুরুজ বলেন, মানুষের মধ্যে যক্ষ্মার সংক্রমণ হলেও সচেতনতার অভাবে শনাক্তের আওতায় আসছে না। এতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সচেতনতা বাড়িয়ে রোগী শনাক্ত করে যক্ষ্মার সংক্রমণ থেকে উপজেলাবাসীকে রক্ষার আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা যক্ষ্মা ও কুষ্ট নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা এসএম আসাদুজ্জামান বলেন, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী প্রতি লাখে ২২১ জনের শরীরে যক্ষ্মার সংক্রমণ হওয়ার কথা। সে অনুপাতে এ উপজেলায় প্রায় ৯০০ রোগী প্রতি বছর শনাক্ত হবার কথা থাকলেও রোগী শনাক্ত হচ্ছে অর্ধেক। তিনি আরো বলেন, মানুষের মাঝে সচেতনা না থাকায় রোগী শনাক্ত করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বার্তাবাজার/এমকে