ঢাকার কেরানীগঞ্জে গত ২৪ ঘন্টায় প্রাপ্ত রিপোর্টে নতুন করে আরো ১৯ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী। এ নিয়ে উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮২১ এ পৌঁছলো।
শনিবার (২০ জুন) রাত সাড়ে ১০ টায় কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মীর মোবারক হোসেন বার্তা বাজারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ২০ থেকে ৩০ এর মধ্যে ১২ জন, ৩১ থেকে ৪০ এর মধ্যে ৪ জন ও ৪১ থেকে ৫০ এর মধ্যে ২ জন রয়েছেন। এছাড়াও ৫৪ বছর বয়সী একজন রয়েছেন।
কেরানীগঞ্জে নতুন শনাক্তদের মধ্যে শুভাঢ্যা ইউনিয়নের একজন নারী ও একজন পুরুষ, বাস্তা ইউনিয়নের দুইজন পুরুষ, কলাতিয়া ইউনিয়নের দুইজন করে পুরুষ ও নারী, কোন্ডা ইউনিয়নের বসুন্ধরা এলাকার একজন পুরুষ, আগানগর ইউনিয়নের দুইজন পুরুষ ও একজন নারী, শাক্তা ইউনিয়নের একজন পুরুষ, জিনজিরা ইউনিয়নের একজন পুরুষ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই নার্স, এক ক্লিনার ও এ কর্মী। এছাড়া একজন পল্লী বিদ্যুৎকেন্দ্রর কর্মী করোনা পজিটিভ রয়েছেন।
ডা.মীর মোবারক হোসেন জানান, কেরানীগঞ্জে এই পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৪ শ’রও বেশী নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮২১ জনে। উপজেলায় এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩০০ জন।
এসময় আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যাপারে তিনি জানান, রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। করোনা আক্রান্ত রোগীদের সাথে ৪টি চিকিৎসক টিম কথা বলে সব জানার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
মোবারক হোসেন আরো জানান, কেরানীগঞ্জে করোনা পজিটিভের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। কেরানীগঞ্জের মানুষ সামাজিক দূরত্ব না মেনে যে যার মতো বাহিরে বের হচ্ছেন। সবাই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। আর তাই আক্রান্তের সংখ্যা কমাতে ঘরে থাকার বিকল্প নেই।
এসময় তিনি আরও জানান, কোনীগঞ্জবাসীকে করোনা ভাইরাসের বিষয়ে সচেতন হতে হবে এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার পাশাপাশি, মাস্ক পরে বাহিরে বের হতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া বাহিরে ঘোরাফেরা থেকে বিরত থাকতে হবে। তা না হলে অবস্থা আরও ভয়াবহ হবে।
উল্লেখ্য, গত ৫ এপ্রিল কেরানীগঞ্জে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর থেকে প্রতিনিয়ত করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী, স্বাস্থ্যকর্মী, ডাক্তার এবং সেচ্ছাসেবী।
বার্তা বাজার / ডি.এস