করোনা আক্রান্ত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক ইমরান হোসেন সুস্থ হয়েছেন। দীর্ঘ ২৫ দিন করোনা ভাইরাসের সাথে লড়াইয়ের পর দুই দফায় পরীক্ষায় তার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।
করোনা থেকে জয়লাভ করলেও তার আক্ষেপ অন্য স্থানে। এই শিক্ষক জানালেন, করোনার চেয়েও ভয়ংকর মহামারি এই সময়ে সমাজটাকে পঙ্গু করে ফেলেছে। করোনা আক্রান্ত হলে যে কি পরিমানের অবজ্ঞা, আড় চোখ এবং বৈষম্যের শিকার হতে হয় তা করোনা আক্রান্ত না হলে বোঝা যায় না।
ইমরান হোসেন মনে করেন, করোনা ভাইরাস শরীরে যতটা পিড়া না দিয়েছে তার থেকে বেশি পিড়া দিয়েছে সামাজিক কাঠামো, সমাজের বিভিন্ন মানুষের বানোয়াট কথাবার্তা। মানসিক চাপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েও সামাজিক বয়কটের মধ্যে পড়তে হয়েছে তাকে। করোনামুক্তির পরেও মানুষ আড় চোখে তাকায়, কাছে আসতে ভয় পায়।
করোনা রোগীর সবচেয়ে দরকারি ওষুধ হল মানসিক সাপোর্ট, অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ। কারণ মানুষের মাঝে ভুল ধারনা তৈরি হয়েছে যে এই রোগ হলে কেউ বাঁচে না। আসলে ব্যাপারটা তেমন না।মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে পারলে সহজেই করোনা মুক্তি সম্ভব। মনোবল ভেঙে পড়লে শারীরিক অবস্থারও অবনতি হয়, তাই মনোবল হরানো যাবে না।
গত মার্চে ক্যাম্পাস বন্ধের পর নরসিংদীর নিজ বাড়িতে ছিলেন হোম কোয়ারেন্টাইনে। ঈদের কয়েকদিন আগে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন বাজারে। ধারণা করছেন বাজারে অবস্থানকালে সেই কয়েক ঘন্টার মধ্যেই আক্রান্ত হন তিনি। এর ৩ দিন পরই শুরু হয় চোখের পাতা ব্যাথা, জ্বর, সর্দি। এক সপ্তাহের মাথায় বুকটা ভারী হয়ে আসে, কষ্ট হয় নিশ্বাস নিতে। প্রথম ১৫ দিন স্বাদ, ঘ্রান পাননি কোন খাবারে। কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও হারাননি মনোবল।
গত ২৯ মে করোনা পরীক্ষা করার স্যাম্পল পাঠালেও ৪ জুন হাতে আসে রিপোর্ট। কিন্তু যেদিন করোনা পজিটিভ রিপোর্ট নিজের হাতে আসে তার চার পাঁচ ঘন্টা আগেই এই খবর রটে যায় গ্রামে। ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। শুনতে হয় গ্রামের নানান কথা।
করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ার প্রথম দিন থেকেই নিজেকে আলাদা করেন পরিবারের সদস্য থেকে। নিজ বাড়িতেই আলাদা রুমে থেকেছেন। নিয়েছেন ঘরোয়া চিকিৎসা। শুরু থেকেই সচেতন থাকায় আক্রান্ত হননি পরিবারের কোন সদস্য।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের করোনাজয়ী এই শিক্ষক জানান, ‘Good news is no news, bad news is a good news’ বিশ্বাস করতাম না এসব সাংবাদিকতার শব্দবন্ধগুলো। নিজের উপর দিয়ে এ শব্দবন্ধের প্রায়োগিক পরীক্ষা গেল। হাড়ে হাড়ে টের পেলাম কিভাবে বাজে সংবাদ দ্রুত রাষ্ট্র হয়ে যায় আর ভালো সংবাদ কিভাবে চাপা থাকে। রিপোর্ট হল দ্বিতীয় পরীক্ষা। আমি কোভিড-১৯ নেগেটিভ কিন্তু আমি নিজেও জানতে পারলাম না। কেউ ফোন দিয়ে খোঁজও দিল না। যাহোক শুকরিয়া যে নেগেটিভ হলাম। সামাজিক অশুভ চিহ্ন থেকে মুক্তি পেলাম।
বার্তা বাজার / ডি.এস