সিঙ্গাইরে রেড জোন এলাকায় অবাধ চলাচলে বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকি

করোনা ভাইরাস অধিক সংক্রমিত হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে সিঙ্গাইর পৌরসভা ও জয়মন্টপ ইউনিয়নকে গত ১৫ জুন থেকে রেড জোনের আওতায় লক ডাউন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা রুনা লায়লা।

রেড জোন এলাকার সর্বসাধারণকে পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ঘরে থাকার নির্দেশ দেন এবং তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী পৌছানোর জন্য সেচ্ছাসেবী নাম্বারসহ দায়িত্ব দেয়া হয়। উপজেলার বিভিন্ন জনসমাগম স্পটে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী অবস্থানের নির্দেশ দেন। রেড জোন উপেক্ষা করে এলাকায় সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচল এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তেমন মাঠে না থাকায় রেড জোন এলাকাসহ পাশের এলাকায়ও করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি দিন দিন বেড়েই চলেছে।

শুক্রবার জয়মন্টপ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পূর্ব ভাকুমের সাধারণ মানুষ যেন মানছেই না লক ডাউন। তারা পার্শবর্তী ধল্লা ইউনিয়নের নয়াপাড়া মোড়ে এক কাপ চায়ের জন্য এসে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ব্যাঙ্গা মার্কেট এলাকায় প্রশাসনের অবস্থান করার কথা থাকলেও সেখানে তাদের দেখা যায়নি। সেই সুযোগে সাধারণ মানুষ পাশের সড়কে ও বাজারে বেড়িয়ে আসছে।জয়মন্টপ নতুন, পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে ও উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সাধারণ মানুষ সামাজিক দূরত্ব না মেনেই বাহিরে চলাফেরা করছে। তাই জয়মন্টপ থেকে করোনা সংক্রমণ যে কোন সময় ছড়িয়ে পড়তে পারে অন্য এলাকায় ধারণা করছে অনেকে।

এব্যাপারে জয়মন্টপ ইউনিয়নের দুর্গাপুর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, যারা দিনমজুর তারা বাহিরে না আসলে , কাজ না করলে খাবে কি ? এইজন্য বাহিরে আসে। তিনি আরো জানান এক কাপ চা খাওয়ার জন্য বিশ টাকা খরচ করে জায়গীর বাজার গেছিলেন।

অনেকে আবার ঔষুধ ক্রয়ের অজুহাতে ঘুরে বেড়ায়। কিছু এলাকায় লক্ষ্য করা যায় দোকানের ছোট দরজা খুলে চলছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান । এছাড়া ইউনিয়নের প্রায় সকল এলাকার জনগণই অবাধে করছে চলাফেরা। সব থেকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ৩ নং ওয়ার্ডেও বাহিরে ঘুরাঘুরি লক্ষ্য করা যায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা মোবাইল ফোনে বলেন, করোনা ভাইরাসে প্রতিদিন সংক্রমণ আর মৃত্যু দেখেও মানুষ সচেতন না হলে প্রশাসনের পক্ষে তা করা কষ্টকর। আমরা প্রতিদিন সকালে রেড জোন এলাকার বাজার মনিটরিং, উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করি। একার পক্ষে তো সবকিছু দেখা সম্ভব না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান চিহ্নিত করে ওসি সাহেবকে দেয়া হয়েছে। তারপরও বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানান।

বার্তা বাজার / ডি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর