সরকারি ভিজিডি কার্ডের তালিকায় নাম থাকলেও ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার ১৩ জন দুস্থ নারীর ১৭ মাস ধরে ভাগ্যে জোটেনি চাল। তবে তাদের কার্ড দিয়ে প্রতি মাসে চাল তুলে নিচ্ছে কারা—তা বলতে পারছেন না ওই কার্ডধারীরা। চেয়ারম্যানের যোগসাজশে এ চাল আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তারা। উপজেলার বানা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছে। ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন সদস্য এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান হাদী হুমায়ুন কবির বাবু।
শুক্রবার সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে বানা ইউনিয়নে সরকারি ভিজিডি কার্ডের জন্য ৩৬৬ দুস্থ নারীর তালিকা তৈরি করা হয়। সেই থেকে প্রত্যেক কার্ডধারী মাসে ৩০ কেজি করে চাল তুলছেন। তবে তালিকায় নাম থাকার পরও অন্তত ১৩ জন নারী কার্ড না পাওয়ার অভিযোগ করেন। কার্ড না পেলেও অন্য কেউ তাদের নামের চাল তুলে নিচ্ছে বলে জানান তারা।
ভুক্তভোগী ১৩ নারী হলেন বানা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কোমেলা বেগম, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রেনুকা বেগম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জাহানারা বেগম ও জোসনা বেগম, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবিনা বেগম, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পারুল বেগম, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খুশি বেগম, রমেনা বেগম, নূরজাহান বেগম ও সাথী খানম, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রত্না, তানিশা বেগম ও আদরী বেগম। তাঁদের অভিযোগ, তালিকায় নাম থাকা সত্ত্ব্বেও এখন পর্যন্ত চাল পাননি তাঁরা।
ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কাজী বাকা বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডেও চাল না পাওয়ার তালিকায় কয়েকজন আছে। চেয়ারম্যানকে এ ব্যাপারে জানিয়েছি। তিনি বলেছেন, এটা আমার বিষয়; তোমাদের এ নিয়ে ভাবতে হবে না।’
অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান হাদী হুমায়ুন কবির বাবু বলেন, ‘আমরা এক বছর আগে সবাইকেই কার্ড দিয়েছি। সবাই ঠিকমতোই চাল উঠিয়ে নিচ্ছে। এখন কার চাল কে তুলে নিচ্ছে—সেটা তো আমি বলতে পারছি না। তা ছাড়া এত বড় ইউনিয়ন, সবার মুখ তো চিনে রাখা সম্ভব নয়। যদি এ রকম ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে প্রকৃত কার্ডধারীদের চাল পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাশেদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এরই মধ্যে আমরা রিপোর্ট জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়েছি।’
বার্তা বাজার / ডি.এস