ঈশ্বরগঞ্জে অভ্যন্তরীণ সড়কের বেহাল দশা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের অভ্যন্তরীণ বেহাল সড়কে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে থাকা বেশ কিছু সড়কের অবস্থা বেহাল থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষকে। ওই অবস্থায় বেহাল সড়ক গুলো সংস্কার করে দুর্ভোগ লাঘবের দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আওতাধীন উপজেলা সড়ক নামে মোট ৬৫.২৪ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬.৮১ কিলোমিটার পাকা ও ৮.৪৩ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক। ইউনিয়ন সড়কেরমধ্যে ১০১.৩৪ কিলোমিচার পাকা ও ৩২.০৫ কিলোমিটার কাাঁচা সড়ক।

গ্রাম সড়কের মধ্যে ৫৮.৫৬ কিলোমিটার পাকা ও ২৯১.৩৮ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক। এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত রাস্তা গুলো নির্মাণ কাজ শেষ করার পর কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাব, রাস্তা ঘেঁষে অপরিকল্পিত ভাবে পুকুর-ফিসারিজ করা, রাস্তায় ধারণ ক্ষমতার চেয়ে ভারি যানবাহন চলাচল, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দ্রুত রাস্তা গুলো বেহাল হয়ে যায়।

কোনো কোনো রাস্তা সংস্কার করা হলেও বছর খানেকের মাথায় তা পুরুনো চেহারায় ফিরে যায়। বর্ষায় গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা গুলো দিয়ে মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে ৩ টি সড়ক রয়েছে উপজেলার ভেতরে।

গৌরীপুরের গাজীপুর থেকে তারুন্দিয়া, উচাখিলা হয়ে মধুপুর দিয়ে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পর্যন্ত সড়কটির দীর্ঘ। নতুন যুক্ত হয়েছে উপজেলার আঠারবাড়ি থেকে ঈশ্বরগঞ্জ পযন্ত ১৬ কিলোমিটার ও ঈশ্বরগঞ্জ থেকে উচাখিলা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক। এলজিইডি থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে অতি সম্প্রতি স্থানান্তরিত হয়েছে সড়ক দুটি। তবে তিনটি সড়কেই খানাখন্দে চরম দুর্ভোগের মধ্যে মানুষকে চালচাল করতে হচ্ছে।

ঈশ্বরগঞ্জ-উচাখিলা সড়কের প্রবেশ মুখের কাছেই বিশালাকৃতির খানখন্দে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ। একই অবস্থায় অন্য সড়ক গুলোরও। ওই অবস্থায় দ্রুত সড়ক গুলো সংস্কার করে দুর্ভোগ কমানোর দাবি মানুষের।

এলজিইডি উপজেলার মাইজবাগ-রাজীবপুর প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়ক, জাটিয়া-হারুয়া প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক, মাইজবাগ-দত্তগ্রাম প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক, বড়হিত-চরপাড়া প্রায় দুই কিলোমিটার, আঠারবাড়ি-রোয়েল বাড়ি প্রায় চার কিলোমিটার সড়কের সংস্কার করার জন্য এলজিইডি উদ্যোগ নিলেও করোনা দুর্যোগের কারণে ঢিমে তালে চলছে কাজ।

উচাখিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তার এলাকায় প্রায় ১১ কিলোমিটার পাকা সড়কের অধিকাংশের অবস্থা বেহাল। গ্রামীন যোগাযোগের বাকি সড়ক গুলো কাঁচা। এতে চরম দুর্ভোগে গ্রামের মানুষের চলাচল করতে হয়। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত বেহাল সড়ক গুলো সংস্কারের দাবি জানান তিনি।

এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বলেন, সড়ক করার পর রাস্তার পাশে পাড় না রেখে পুকুর করায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এলাকায় গিয়ে সংশ্লিষ্টদের ডেকে নিষেধ করা হচ্ছে। মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এ অবস্থা চলমান থাকলে কিছু কিছু জায়গায় প্রশাসনকে নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরো বলেন, ৫ সড়কে ইতোমধ্যে কাজ চলমান রয়েছে। অন্য যে সকল সড়কের অবস্থা বেহাল সে গুলো পর্যায় ক্রমে সংস্কার করা হবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শেখ মোজাম্মেল হক বলেন, উপজেলার তিনটি সড়কের মধ্যে দুই কিশোরগঞ্জ সড়ক বিভাগ ও একটি ময়মনসিংহ সড়ক বিভাগের অধীনে। সড়ক গুলো পূণ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কে.এ.স/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর