রাজধানীর গুলিস্থান পার্কে শতাধিক পথশিশুদের নিয়ে ফল উৎসবের আয়োজন করে সামাজিক সংগঠন “পথের ইশকুল”। সেইখানে পরিচয় হয় কিশোরগঞ্জের মোস্তুফার সাথে। প্রায় ২ বছর ধরে কমলাপুর রেলওয়েস্টেশন ও গুলিস্থান পার্কেই তার বসবাস। প্রতিদিন সন্ধ্যায় সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে একবার খাবার দেয়া হয়। আর সেই ১ বার খেয়েই জীবনযাপন করছে মোস্তুফা। সময়ের পরিবর্তনে সেও হয়েছে মাদকাসক্তও । তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নানশ্রী গ্রামে। তার পিতার নাম তারা মিয়া। সে ৬ ভাই বোনের মধ্যে ৩য়।
মোস্তুফা জানায়, প্রায় ২ বছর আগে বাবা মায়ের কাছে বায়না ধরেছিলো একটি সাইকেল কিনে দিতে। কিন্তু সাইকেল কিনে না দেয়ার রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় সে। তারপর কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনে চড়ে চলে আসে কমলাপুরে। ১ বছর রেলস্টেশনে কুলির কাজ করে যে টাকা উপার্যন করতো তা দিয়ে চলতো। তারপর কিছুদিন পর থেকে সঙ্গদোষে হয়ে ওঠে মাদকাসক্ত। যে টাকা উপার্যন করে তা দিয়েই নেষা করেই দিন কাটতে থাকে তার। দেশজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় লকডাউনে ট্রেন বন্ধ হয়ে গেলে টাকা উপার্জন বন্ধ হয়ে যায় তার।
“পথের ইশকুল” নামে একটি সামাজিক সংগঠন গুলিস্থান পার্কে প্রতিদিন সন্ধ্যায় খাবার বিতরণ করে। সেই খবরে মোস্তুফা মিয়া কমলাপুর রেলওয়েস্টেশন থেকে চলে আসে গুলিস্থান পার্কে। সেখানে একবেলা খেতে পায় সে। আর সারাদিন চলে অনাহারে।
মোস্তুফা বলেন,“আমি ২ বছর হলো বাড়ি থেকে এসেছি, কেউ আমাকে খুঁজেনি, আমাকে যদি কেউ নিতে আসে তাহলে বাড়ি ফিরে যাবো”
“পথের ইশকুল”এর প্রতিষ্ঠাতা সাকির মাটি বার্তা বাজারকে জানান, মোস্তুফা সারাদিন এ পার্কেই ঘুরাঘুরি করে। সন্ধ্যায় আমরা খাবার নিয়ে আসলে তার সাথে কথা হয়। সে যদি তার পরিবারে ফিরে যায় তাহলে সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।
সাম্প্রতিক কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও ২০১৮ সালের এক সুত্রমতে, দেশে পথশিশুর সংখ্যা ১১ লক্ষ। যার অর্ধেকরই বেশি বাসবাস করে রাজধানী ঢাকায়। এদের পিতা মাতা কে? তার কোনো উত্তর নেই তাদের কাছে। পার্ক, ফুটপাত কিংবা বিভিন্ন স্টেশনে মানবেতর জীবনযাপন করে তারা। সরকারি এবং বে-সরকারিভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রকল্পই আলোর মুখ দেখেনি।
বার্তা বাজার/এস.আর