ফরিদপুরে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনাটি সাজানো নাটক: পুলিশ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গোপালপুর ঘাটের যাত্রী ছাউনি থেকে এক গৃহবধূকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গনধর্ষন ও ভিডিও করার ঘটনাটি সাজানো ও অসত্য অভিযোগ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে থানায় স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট এই তথ্য জানান ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন) মো. জামাল পাশা।

সাংবাদিকদের তিনি জানান, গৃহবধূকে গণধর্ষনের ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ন সাজানো ও মিথ্যে কাহিনী। তিনি বলেন, দিনের বেলা গোপালপুর ঘাটের মতন একটি জন সমাগমপূর্ন এলাকা থেকে চারজন যুবক গৃহবধূকে মুখ বেঁধে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছে বিষয়টি পুলিশের কাছে অসঙ্গতি পূর্ন মনে হলে তদন্তে নামে পুলিশ।

গত ১৬ জুন মঙ্গলবার গৃহবধূর অভিযোগের পর পুলিশি তদন্তে গণধর্ষনের সত্যিকার কাহিনী বেড়িয়ে এসেছে। গৃহবধূ নিজের পরাকিয়া ঢাকতে ও প্রেমিক রাজু মন্ডল(২৬) কে ফাঁসাতে একটি গণধর্ষণের নাটক সাজিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে শাহীন মোল্লা (২৫)নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা নিয়ে আসে পুলিশ। পরে অভিযুক্ত শাহিন ও অন্যান্যদের কললিস্ট যাচাই করে অভিযোগে দেওয়া বক্তব্যের সাথে মিল পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিবরনে লিটনের ঢাকায় থেকে আসার কথা উল্লেখ করলেও সে ঐদিন তার বাড়ীতেই ছিল। দুই সন্তানের জননী গৃহবধুর স্বামী লিটন ও গৃহবধূকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে সত্য ঘটনা বেড়িয়ে আসে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা জানান, লিটন পার্শ্ববর্তী সদরপুর থানার একটি ডাকাতি মামলায় দুই মাস জেলে ছিল সেই সুযোগে লিটনের মামাতো ভাই রাজু মন্ডলের সাথে ওই গৃহবধূর পরকীয়া প্রেমের গভীর সম্পর্ক তৈরী হয় যা পরিবারের সদস্যরা জেনে ফেলে। লিটন, রাজু ও শাহীন পরস্পর পূর্ব পরিচিত। লিটন তার স্ত্রীর সাথে রাজুর প্রেমের সম্পর্কে ক্ষুব্ধ ছিল। গৃহবধূ ও তার স্বামী রাজুর ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মিথ্যে গণধর্ষনের নাটক সাজিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছে যা পুলিশি তদন্তে প্রমানিত হয়েছে।

পরকীয়ার বিষয়ে ঐ গৃহবধু স্বীকার করে বলেন, ১৪ জুন রবিবার রাজুর সাথে ঘটনার দিন গোপালপুর ঘাটে তার দেখা হয়। দু’জনের কথার এক পর্যায়ে রাজু তাকে চর থাপ্পর মেরে চলে যায়। পরে তার স্বামী লিটন এসে তাকে বাড়ি নিয়ে যায়। রাজুর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

এ সময় স্থানীয় গনমাধ্যমকর্মী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন থানার অফিসার ইনচার্জ নাজনীন খানম, উপজেলা চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মোতালেব হোসেন মোল্যা, সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আজাদ খান ও ইউপি সদস্য ফজলুর রহমান।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর