ফরিদপুরে র‌্যাব-পুলিশের ৭০ সদস্য করোনায় আক্রান্ত

চলমান করোনা দুর্যোগে চিকিৎসকের পরেই ফ্রন্টলাইন ফাইটার হিসেবে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মানুষকে ঘরে রাখতে গিয়ে দিনের বেশীর ভাগ সময়ই বাইরে কাটাতে হচ্ছে র‌্যাব-পুলিশ সদস্যদের। যার কারনে করোনা ভাইরাস জনিত রোগ কোভিট-১৯ এ তাদের আক্রান্তের সংখ্যাটাও বেশ দীর্ঘ।

ফরিদপুরে করোনা রুগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই মানুষকে ঘরে রাখা, সচেতনতা মূলক প্রচারণা, নিহত ব্যাক্তির দাফন বা সৎকার, আক্রান্ত ব্যাক্তির বাড়িতে খাবার পৌছানো, কর্মহীন হয়ে পরা অসহায় মানুষদের খাবার-অর্থ দিয়ে সহায়তা করা, রাস্তায়-ফুটপাতে থাকা ঘরহীন মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করে আসছে জেলা পুলিশ।

পিছিয়ে নেই র‌্যাব সদস্যরাও। এই করোনা দুর্যোগেও নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান, মাদক বিরোধী অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব সদস্যরা। র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, র‌্যাব ৮ ফরিদপুর কোম্পানীর ২১ জন সদস্য করোনা পজিটিভ হয়েছেন।

ফরিদপুরে এ পর্যন্ত পুলিশের মোট ৪৯ জন সদস্য করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে এসআই ৫ জন, সার্জেন্ট ১ জন, এএসআই ৬ জন, এটিএসআই ১জন, নারী এসআই ১ জন, কনস্টেবল ৩৫ জন। এর মধ্যে ভাঙ্গা থানাতেই আক্রান্ত ৩৩ জন।

র‌্যাব ৮ ফরিদপুর কোম্পানী অধিনায়ক দেবাশীষ কর্মকার তার ক্যাম্পের ২১ সদস্য আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আক্রান্ত র‌্যাব সদস্যদের র‌্যাব-৮ এর হেড কোয়ার্টার বরিশালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে র‌্যাব সদস্যদের চিকিৎসায় মিনি হসপিটাল এর ব্যবস্থা রয়েছে। করোনা আক্রান্ত র‌্যাব ৮ এর সদস্যদের সেখানেই চিকিৎসা দেয়া হবে।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলীমুজ্জামান জানান, শুরু থেকেই জীবনের ঝুকি নিয়ে এই দুর্যোগে কাজ করছে পুলিশ। বেশীর ভাগ সময়ই দেখা যায়, করোনায় নিহত ব্যাক্তির দাফনে বা সৎকারে কোন লোক পাওয়া যায় না। সেখানে পুলিশ সদস্যরা ঝুকি নিয়ে দাফন ও সৎকারের ব্যবস্থা করছেন। এছাড়াও আক্রান্ত ব্যাক্তির ও পরিবারের নিয়মিত খোজ খবর নিচ্ছেন।

তিনি জানান, জেলায় মোট ৪৯ জন পুলিশ সদস্য করোনা পজিটিভ হয়েছেন। এর মধ্যে ভাঙ্গা থানাতেই ৩৩ জন আক্রান্ত। ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স থেকে ফোর্স পাঠিয়ে ওই থানার দৈনন্দিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

পুলিশ থাকতে একটি মানুষও অসহায় অবস্থায়, না খেয়ে এবং মৃত্যু ব্যাক্তির দাফন বা সংকার বন্ধ থাকবে না বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের বেশীর ভাগ সদস্যই নিজ বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকীরা জেলার পুলিশ হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষায়িত কোভিট হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর