বড় ভাই ও মায়ের মৃত্যুকে সহজভাবে মেনে না নিতে পেরে সেই শোকে নিজের গলা কেটে গাজীপুরে এক পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যার খবর পাওয়া গিয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) রাতে গাজীপুরের বাসা থেকে নিহত পুলিশ কনস্টেবল রবিউল আউয়ালের (২২) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
রবিউল আউয়াল গাজীপুর মহানগরীর পশ্চিম বিলাশপুর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল খন্দকারের ছেলে। তিনি কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গাজীপুর সদর থানার ওসি মুহাম্মদ আলমগীর ভূঞা বলেন, গত ৭/৮ মাস আগে বিয়ের আগের দিন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আউয়ালের বড় ভাই। এর কিছুদিন পরে মারা যান তার মা। নিজের মা ও ভাইয়ের মৃত্যুতে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন পুলিশ কনস্টেবল আউয়াল।
যার প্রেক্ষিতে গত জানুয়ারিতে চিকিৎসার জন্য ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন তিনি। কয়েকদিন চিকিৎসা করে কর্মস্থলে ফিরে গেলে আবারও তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। আবারও ছুটি নিয়ে বাড়ি এসে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। ছুটি এসে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে না যাওয়ায় কর্মস্থলে যোগদানের চিঠি পেয়ে বুধবার সকালে আউয়ালকে নিয়ে তার বাবা ও ভাই কিশোরগঞ্জে যান।
বাড়ি ফিরে আসার পর রাত ৮টার দিকে বাড়ির লোকজনের অগোচরে আউয়াল তাদের রান্নাঘরে ঢুকে ভিতর থেকে দরজার ছিটকিনি আটকে দেয়। দীর্ঘ সময়েও তার সাড়া শব্দ না পেয়ে বাড়ির লোকজন পুলিশকে সংবাদ দেয়। খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ ওই ঘর থেকে আউয়ালের গলা কাটা রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে রক্ত মাখা একটি বটি উদ্ধার করা হয়।
সদর থানার ওসি মুহাম্মদ আলমগীর ভূঞা আরো জানান, ধারণা করা হচ্ছে মা ও ভাইয়ের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বটি দিয়ে গলা কেটে আত্মহত্যা করেছেন পুলিশ কন্সটেবল আউয়াল। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন।
বার্তাবাজার/এসজে