লিচুর ব্যবসা করতে পাবনা থেকে দিনাজপুরে গিয়ে প্রেম-বিয়ে; কারাগারে বর

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থেকে নুর আলম প্রামাণিক (২৪) ও তার বন্ধু মোমিন প্রামাণিক (২৫) লিচুর ব্যবসা করতে যান দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায়। লিচুর ব্যবসা করতে এসে কাহারোল উপজেলার ঢিপীকুড়া গ্রামের নিজাম উদ্দিনের নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে নুর আলম প্রামাণিকের। লিচুর ব্যবসা যেমন তেমন প্রেমের টানেই বেশ কয়েকদিন ধরে কাহারোল উপজেলায় বাসস্থান গড়ে তোলেন নুর আলম প্রামাণিক। মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে কয়েকদিনের মধ্যেই প্রেমের বিষয়টি ওই মেয়ের পরিবারে জানাজানি হয়।

প্রেমের বিষয়টি জানাজানি হলে ছেলে পক্ষের পরিবার ছাড়াই মেয়ে পক্ষ বিয়ে দিতে রাজি হয় নবম শ্রেণি পড়ুয়া ওই শিক্ষার্থীকে। কিন্তু বিধি বাম! আজ বুধবার সকালে থেকে নুর আলম প্রামাণিকের সাথে ওই শিক্ষার্থীর বিয়ের আয়োজন করা হলে এলাকাবাসী কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতে বর, বরের বন্ধু এবং কনের বড় ভাইকে বাল্যবিবাহ এবং বর্তমান করোনা পরিস্থিতে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই বিয়ের আয়োজন করায় কারাগারে পাঠানো হয় তাদের।

বিয়ের আয়োজন থেকে ভ্রাম্যমান আদালতে কারাগারে পাঠানো বর হলেন পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার খেরেত দাড়ি গ্রামের বাদশা প্রামাণিকের ছেলে নুর আলম প্রামাণিক, একই গ্রামের বাবলু প্রামাণিকের ছেলে মোমিন প্রামাণিক এবং কনের বড় ভাই রবিনকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, পাবনা থেকে লিচুর ব্যবসা করতে আসেন নুর আলম প্রামাণিক ও তার বন্ধু মোমিন প্রামাণিক। উপজেলার ঢিপীকুড়া গ্রামের নিজাম উদ্দিনের নবম শ্রেণিতে পড়–য়া মেয়ের সাথে এর মধ্যেই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে নুর আলম প্রামাণিকের। আজ বুধবার (১৭ জুন) মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে নুর আলমের সাথে বিয়ের আয়োজন করে তার বাবা ও বড় ভাই। কিন্তু বাল্যবিবাহ ও করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বিয়ের আয়োজন করা হলে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। তিনি ঘটনাস্থলে এসে ভ্রাম্যমান আদালতে তাদের জেল ও জরিমানা করেন।

এ বিষয়ে কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুল হাসান বলেন, ‘আমার কাছে খবর আসে উপজেলার ঢিপীকুড়া গ্রামে একটি বাল্যবিয়ে হচ্ছে। আমি খবর পেয়েই সেখানে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি বিয়ের আয়োজন চলছে। পাবনা থেকে বর নুর আলম প্রামাণিক ও তার বন্ধু মোমিন প্রামাণিক ছাড়া তাদের পক্ষে আর কেউ নেই। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বাল্যবিয়ের অপরাধে বর নুর আলম প্রামাণিকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং তার বন্ধু মোমিন প্রামাণিকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও মেয়ের বড় ভাই মো. রবিনকে ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড সহ ১,০০০ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। এছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চলতি মাসে এখন পর্যন্ত মোট ৩৭ টি মামলায় ৬৩০০০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’

বার্তা বাজার/এস.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর