চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় গাছের থোকায় থোকায় ধরেছে টকটকা লাল জামরুল। ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের প্রতিরোধক হিসেবে মানবদেহে কাজ করে এই রক্তবর্ণা জামরুল। দেখলে মনে হয় রক্ত যেন ফেটে পড়ছে ফলটির শরীর বেয়ে।
রঙের এমন তীব্র আকর্ষণ ফলটির দিকে বারবার চোখ ফেরাতে বাধ্য করে। গাছসমেত ফলটিকে হাত দিয়ে ছুঁতে মন চায় দেখামাত্রই। গ্রীষ্মকাল হলো ফলের মৌসুম। মাঝারি আকারের গাছটিতে ধরেছে থোকায় থোকায় লাল জামরুল। সবুজ পাতাদের ফাঁক দিয়ে লাল লাল ফলের রক্তিম সৌন্দর্য হৃদয়কে নাড়া দিয়ে উঠে। জামরুল ফলটি দেখতে অনেকটা ঘণ্টাকৃতি। এ কারণে এটি ইবষষ ঋৎঁরঃ নামেও পরিচিত। ফলটি দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি এর গুণাবলীও অনেক।
আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ হতে পর্তুগিজ নাবিকেরা প্রথম এই ফল অত্র অঞ্চলে নিয়ে আসে। ফলটির ইংরেজি নাম ঊঁমবহরধ লধাধহরপধ । এর আ লিক নাম অনেক। যেমন- জামরুল, আমরুজ, কোন কোন অ লে লকট নামেও পরিচিত। জামরুল বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। তবে সাদা, হালকা সবুজ ও লাল-গোলাপী রঙেরই বেশি দেখা যায়। সাধারনত বীজ থেকে এ গাছ হয়, কিন্তু ডাল কেটে পানিতে রাখলে শেকড় জন্মায়।
কোলেস্টরেল কমাতে জামরুল দারুণ ভূমিকা রাখে। ভিটামিন সি এবং ফাইবারসমৃদ্ধ জামরুল হজমশক্তি বাড়াতে দারুণ সহায়তা করে যারা ডায়াবেটিস নিয়ে শঙ্কায় আছে, তারা ডায়াবেটিসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে জামরুল খেতে পারে। নির্ঘুম কিংবা দুশ্চিন্তায় যাদের চোখের নিচে কালি পড়েছে তারাও জামরুল খেলে উপকার পাবে।
গাছ মালিক সজীব ইসলাম বলেন, স্থানীয় নার্সারি থেকে এই রক্ত-জামরুলের গাছ সংগ্রহ করে আমার বাসায় রোপন করি। বিগত তিন বছর ধরে ফল ধরছে। এবার পুরো গাছে প্রাায় ২ শতাধিক জামরুল হয়েছে স্বাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি দারুণ রসালো। খেতে সাদা-জামরুলের মতোই। প্রচুর পানি এবং হালকা মিষ্টি। বছরে দু’বার ফল ধরে। গাছের উচ্চতা আট থেকে নয় ফুট হয়ে থাকে। এইফলগুলো আমাদের এলাকাবসিও আমরা নিজেরাই খেয়ে থাকি।
জামরুল গাছে পোকা-মাকড়ও রোগবালাইয়ের তেমন কোনে উপদ্রব দেখা যায় না। কচি পাতা খেকো পোকার আক্রমণ কদাচিৎ দেখা যায়। এদের দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি সুমিথিয়ন মিশিয়ে আক্রান্ত গাছে স্প্রে করতে হবে।
এলাকাবাসি শরিফ হাসান বলেন, গাছটির নিচে দাঁড়িয়ে উপরের এই ফলের দিকে তাকালেই মনটা ভালো হয়ে যায়। স্বাদে অন্যান্য জামরুলের সাথে বিশেষ পার্থক্য না থাকলেও এর রং দেখলে যে কারো লোভ হবে।
দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, জামরুল ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। বর্তমানে এই লাল জামরুল অনেকের ছাদে বা ফলের বাগানে শোভা পাচ্ছে। জামরুলের উপকারীতা অনেক। এই ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ, ভিটামিট-সি ছাড়াও ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান বিদ্যমান।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং ত্বকের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় জামরুলের খুব ভালো কাজ করে। শরীরের পানিশূন্যতা ও দাঁতের সমস্যা সমাধানে ভালো কাজ করে। বাত নিরাময়ে এবং চোখের নিচের কালো দাগ দূর করে থাকে। ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য এটি উপকারী। গ্রীষ্মকালে এ ফলটির কদর বেশি। জামরুল ফলের মিষ্টতা বেশি না হলেও এই ফলটি খেতে সুস্বাদু। জামরুলের নিজস্ব একটি মিষ্টি গন্ধ রয়েছে। জামরুলের বহিরাবরণ মোমের মতো মসৃণ।
কে.এ.স/বার্তাবাজার