ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় একই রশিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে এক দম্পতি। তাদের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে তাদের লাশের পাশে একটি সুইসাউড নোট পাওয়া যায়। সুইসাউড নোটে তারা লিখেন, আমাদের মৃত্যুর কারণ কেউ নয়। আমরা সেচ্ছায় মৃত্যুকে বরণ করেছি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ৮টায় রাণীশংকৈল উপজেলার বিরাশী বাজার নামক এলাকায় নিহতের নিজ বাড়ির শয়ন কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাণীশংকৈল থানার ওসি আব্দুল মান্নান।
মৃত বিপুল (২৫) চাপোড়পারবর্তীপুর গ্রামের বিরাশী পাড়া এলাকার মৃত সিট কুমারের ছেলে। এবং মৃত পারুল (২২) বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ি ইউনিয়নের বড় কোর্ট আধারদীঘি গ্রামের ঝাটালু সিংহের মেয়ে।
উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম জানান, চাপোড় পারবর্তীপুর গ্রামের বিরাশী বাজার এলাকায় নিজ বাড়িতে শয়ন ঘরে সড়ের সাথে একই রশিতে তাদের ঝুলন্ত অবস্থায় তাদের লাশ এলাকাবাসী দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে স্বামী বিপুল ও স্ত্রী পারুলের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।
সুইসাইড নোটে পারুল লিখেন, আমাদের মৃত্যুর কারন কেউ নয়। আমরা নিজের ইচ্ছায় মৃত্যু বরণ করেছি। কথা হচ্ছে এটাই। আমার বাবা যে আমার বিয়েতে যৌতুক দিয়েছিল সেটা ফেরত নিতে বলছিনা। আমাদের ইচ্ছা একটাই যে আমার গহনা, আর ৪টি আংটি ১টি মোটরসাইকেল আর আমার বিয়েতে যে জিনিসগুলো পড়েছিল সেগুলো যেন আমার মা বাবা পায়। এটাই আপনাদের কাছে আশা করলাম।
অন্যদিকে বিপুল লিখেন, আমি একজন অভাগা যার জীবনের কোন মূল্য ছিলনা। তাই এই মূল্যহীন জীবন আজ বিকল হয়ে গেল। আমি এই জীবনে জেনে বা না জেনে যত ভুল করেছি তার জন্য সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থী।
তিনি আরও লেখেন, আমি এবং পারুল যদি পরিবারের আপনজনের কাছে কোন ভুল করে থাকি তাহলে আমাদের ক্ষমা করে দেবেন। আর একটা শেষ প্রার্থনা এই যে আমাদের সমাধিচর একই জায়গায় পাশাপাশি দেবেন যাতে আমরা দুজন আলাদা না হই।
রাণীশংকৈল থানার ওসি আব্দুল মান্নান বলেন, মৃত বিপুল ও পারুলের মরদেহ উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
বার্তা বাজার / ডি.এস