বাংলাদেশে তৈরি করা রেমডিসিভির ওষুধ কীভাবে ভারতীয় নাগরিকেরা ব্যক্তিগতভাবে আমদানি করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর।
ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস জানায়, অনেক ভারতীয় এই ওষুধ অবৈধভাবে ঢাকা থেকে নেয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ নিয়েছেন।
বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর ওষুধ ব্যবহারের অনুমতি এখনো দেয়া হয়নি। তাহলে কীভাবে আমদানি করা হচ্ছে? ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে আলাপকালে নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমন প্রশ্ন তোলেন ভারতের সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের (সিডিএসসিও) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
ওই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের রেমডিসিভির ওষুধের মান তারা পরীক্ষা করে দেখছেন। তার আগে এই ওষুধটির আমদানি ঠেকাতে চাওয়ার দাবি করেছেন তিনি।
করোনা চিকিৎসায় আমেরিকা, বাংলাদেশ, জাপান, সিঙ্গাপুরসহ বেশ কয়েকটি দেশে জরুরি ভিত্তিতে রেমডিসিভির ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে। একাধিক মার্কিন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, এই ওষুধে রোগীদের সুস্থ হওয়ার সময় কমে আসে। এরপর বাংলাদেশের চারটি কোম্পানি ওষুধটি তৈরি করে সরকারকে দেয়।
এই খবর চাউর হওয়ার পর রেমডিসিভির নিয়ে ভারতীয়দের আগ্রহ বাড়ে। স্থানীয় আইন অনুযায়ী, আমেরিকা-সৌদি আরব থেকে রোগীদের স্বজনেরা ওষুধটি আমদানি করছেন।
ভারত সরকার ওষুধটির বিষয়ে এখনো দ্বিধায় আছে। স্থানীয় কোম্পানিকে ওষুধটি তৈরির অনুমতি দেয়া হবে কি না, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যে ছয়টি ভারতীয় কোম্পানি ওষুধটি তৈরির আগ্রহ দেখিয়েছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারতের অনেক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরা রেমডিসিভির ইনজেকশন ব্যবহার করতে ডাক্তারদের অনুরোধ করছেন।
দিল্লির বিবেক নাঙ্গিয়া নামের এক চিকিৎসক সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, ‘অনেক রোগী ওষুধটির বিষয়ে আমাদের কাছে জানতে চাইছেন। আমরা তিনজনকে দিয়েছি। খুব একটা উন্নতি পাইনি। বাংলাদেশ থেকে যারা ওষুধটি আমদানি করেছেন তাদের বিষয়ে আমার কোনো ধারণা নেই।’
বার্তাবাজার/এমকে