যশোরের ঝিকরগাছায় বিষাক্ত মদপান করে গত ২৪ ঘন্টায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়রা ভেজাল মদপানে তাদের মৃত্যু হয়েছে দাবী করলেও পুলিশ বলছে ভেজাল মদপানের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তাদের অধীনে আরও ৪ জন অ্যালকোহলজনিত কারণে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
অস্বাভাবিকভাবে মৃত ব্যক্তিরা হলেন- উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আবুল গাজীর ছেলে হাবিল গাজী (৬০), বর্নি গ্রামের সুরত আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৪০), হাজিরালী গ্রামের মৃত গহর আলীর ছেলে আসমত আলী (৫০), পুরন্দরপুর গ্রামের মৃত ফকির ধোপার ছেলে হামিদুর রহমান (৫৫), রাজাপুর গ্রামের আলফাজের ছেলে নুর ইসলাম খোকা (৫৫) এবং ঋষিপাড়ার মৃত রসিক লালের ছেলে নারায়ণ (৫৫)।
পরিচয় গোপন রাখার শর্তে অসুস্থদের মাঝে একজন জানান, সোমবার (১৫ জুন) সকালে পুরন্দরপুর গ্রামের জলিল সর্দারের ছেলে মিন্টুর কাছ থেকে মদ কিনে
৩ বন্ধুর সাথে পান করেছিলেন তিনিও। অল্প পান করে তিনি বাড়ি চলে আসার পর বাকি ৩ বন্ধু রয়ে গিয়েছিল মদের আস্তানায়। বাড়ি ফেরার পর তিনি ও তার ওই ৩ বন্ধু অসুস্থ হয়ে গেলে তাদেরকে যশোরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তার ওই ৩ বন্ধুর মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এই মাত্র মৃতদের বাড়ি থেকে ঘুরে এলাম। তারা সবাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে আত্মীয়-স্বজনরা বলছে। সেই মর্মে তারা মেডিকেল ছাড়পত্রও দেখিয়েছে। ডাক্তার যদি হৃদরোগে মৃত্যুর ছাড়পত্র দেন, তাহলে আমি কীভাবে বলি তারা বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে মারা গেছে?’
এদিকে রাত সোয়া ১১টার দিকে যোগাযোগ করা হলে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ডাক্তার জিয়াউল ইসলাম জানান, ‘ওই ছয়জনের মধ্যে কেউ হাসপাতালে মারা যায়নি। তবে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া চারজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’
বার্তাবাজার/এসজে