রাত ১ টা ৪৮ মিনিট চারদিকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হালকা দমকা হাওয়া সারাদিনের ক্লান্তি শেষে অপেক্ষারত পরিবারের মানুষদের সাথে যখন শান্তিতে একটু ঘুমাতে যাবে ঠিক তখনি সাইলেন্ট মোবাইলের তীব্র আলো চোখে পড়ে তার সবুজ বাটন চাপার সাথে সাথে কানে ভেসে আসে কান্নাজড়িত এক অসহায় মানুষের আকুতি মাখা কন্ঠ। কথার চাইতে কান্নার শব্দই বেশি। বলছে স্যার যেকোন মুল্যে আমার বাড়িতে আসেন আমি খুবই গরিব অসহায় কৃষক। একমাত্র গরুটিই আমার শেষ সম্বল।
একদিকে পরিবার, একদিকে করোনা, একদিকে বৃষ্টি-আর বেকওয়াট যোগাযোগ আরেক দিকে অসহায় মানুষের নিদারুণ আকুতি। অবশেষে ব্যাক্তিগত ড্রাইভারকে ঘুম ভাংগিয়ে বাসা থেকে ডেকে এনে বের হয়ে, টানা ২৬ কিলোমিটার পাকা, কাচা, কাদাময় রাস্তা যাওয়ার পর গাড়ি আর সামনে নেয়ার সুযোগ হয়না। আবার পায়ে হাটা শুরু অন্ধকার, কর্দমাক্ত, পিচ্ছিল রাস্তা হাটতে হাটতে প্রায় ২ কি.মি. যাওয়ার পর নদী মাঝি আসতে দেরি হউয়ায় অপেক্ষার পালা। অবশেষে গরুর মালিকের সহযোগীতায় খেয়াপাড়ের রশিটেনে পার হয় তিনি।
নদী পার হয়ে পুনরায় হাটার পালা। অন্ধকার, পিচ্ছিল কর্দমাক্ত মেঠোপথ পাড়ি দেই হেটে প্রায় ২.৫ কি.মি। অন্ধকারে মোবাইলের আলোতে গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির মধ্যে দিয়ে অলিগলির সরু রাস্তা অতিক্রম করে উপস্থিত হই ঠাকুর চন্দ্রপালের ঘোয়ালঘরে। ডাক্তার কে দেখে আত্বতৃপ্তি আর আস্থার জায়গা খোজে ঠাকুর চন্দ্র হাওলাদারের স্ত্রী, সন্তানসহ পুরো পরিবার।
এতক্ষণ যার কথা বলা হচ্ছে তিনি বগুড়ার শেরপুরের প্রানী সম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন জনপ্রশাসন পদক প্রাপ্ত ডা: মো: রায়হান। গত সোমবার রাতে উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের নলুয়া হাওলদার পাড়া গ্রামের ঠাকুর চন্দ্র হাওলাদারের একটি গরুর ফুট পয়জন হয়। তিনি রাতেই উপজেলা ভেটেরিনারী সার্জন ডা: মো: রায়হানকে খবর দিলে রাতেই সেই গরিব খামারির বাড়িতে গিয়ে গরুর বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসা প্রদান করেন। এবং গরুটি এখন অনেক সুস্থ্য আছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ঠাকুর চন্দ্র হাওলাদারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা ভাগ্য করে এমন একজন ডাক্তার সাহেব কে পেয়েছি। আমরা যখন অসহায় ঠিক তখনি বিধাতার মত এসে আমাদের পাশে দাড়িয়েছেন তিনি।
আমি খুবি গরিব থাকার মধ্যে এই গরুটি আমার সম্বল। যখন রাতে বিপদের মুখে পরলাম তখনি রায়হান স্যারকে ফোন দিলাম তিনি একটুকু অযুহাত না দেখিয়ে আমার পাশে এসে দাড়িয়েছে। তার জন্য সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এভাবেই মানুষের পাশে থাকে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রনীসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা: মো: রায়হান বলেন, এই ক্লান্তিকালে আমি চেষ্টা করছি মানুষের পাশে থেকে সেবা দেওয়ার জন্য। যে কোন সময় যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য আমি প্রস্তুত। আমার প্রানীসম্পদ দপ্তর সর্বদা মানুষের পাশে আছে এবং থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
বার্তাবাজার/এমকে