দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ক্রয়কৃত জমিতে ক্ষমতার জোরে অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকাধীন বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ফুলবাড়ী শহরের আবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সরকারি জমি দখল করে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবন নির্মাণের বিষয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে কলেজ কর্তৃপক্ষ দৌড়ঝাঁপ করলেও কলেজের সম্পত্তিতে ভবন নির্মাণ থেকে সরাতে পারেননি আবুল হোসেনকে।
কলেজের দলিলাদি থেকে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর (ডাঙা) এলাকায় ফুরবাড়ী সরকারি কলেজের নামে তৎকালীন ২৪০ দাগের (পুরাতন) ০.৯৭ একর জমি রয়েছে। একই দাগের বাকি অংশের মালিক মো. আবুল হোসেন এর সাথে ২০০৭ সালে সীমানা প্রাচীর নিয়ে বিরোধ বাধলে তৎকালিন সরকার ৮ ফেব্রæয়ারি দলিলে কারো দিক উল্লেখ না থাকায় ফুলবাড়ী উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর নির্দেশক্রমে ২৪০ দাগে জমির সীমানা নির্ধারণ করে খুঁটি দিয়ে কলেজের অংশের সীমানা চিহ্নিত করে দেন। সেই সময় আবুল হোসেনের অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেয় সরকার। এতদিন সব ঠিকঠাকভাবে চলে আসলেও চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি দুপুরে আবুল হোসেন প্রভাব ঘাটিয়ে ও তার ক্যাডারবাহিনী এবং নির্মাণ শ্রমিক দিয়ে কলেজের জমিতে জোরপূর্বক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
কলেজের জায়গায় ভবন নির্মাণে বাধা দিতে সেখানে কলেজের ভূমি পরিচালনা কমিটির শিক্ষকবৃন্দ গেলে তাদের তোয়াক্কা না করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন আবুল হোসেন। একাধিকবার সরকারি কলেজের জায়গায় কাজ বন্ধ করার পরেও করোনাকালীন সময়ে রাতের আধারে গোপনে নির্মাণ শ্রমিক দিয়ে ভবন নির্মাণের অভিযোগ করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের ক্রয়কৃত সরকারি জমিতে ভবন নির্মাণে বাধা দেওয়া এবং কলেজের জমি উদ্ধার করতে কলেজ কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় শিক্ষামন্ত্রনালয় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ে অভিযোগ ও মামলা দিয়েও কলেজের জমি উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।
চলতি বছরের গত ৬ ফেব্রæয়ারি জেলা প্রশাসকের শিক্ষা ও আইসিটি শাখা থেকে কলেজের জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একটি চিঠি দেয় দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সানিউল ফেরদৌস। আবুল হোসেনকে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের কথা জানিয়ে চিঠিতে লেখা হয়, ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের দক্ষিণ বাসুদেবপুর মৌজার ২৪০ দাগে ০.৯৭ একর জমির পূর্বাংশে মো. আবুল হোসেন ১.০৭ একর জমির মালিক। উক্ত কলেজের নির্দিষ্ট জমিতে মো. আবুল হোসেন অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করছেন। সরকারি সম্পত্তি রক্ষার্থে জরুরী ভিত্তিতে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নির্মাণ কাজ বন্ধ করার জন্য কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. নজমুল হক (বর্তমান) অভিযোগ দাখিল করেছেন। তারই প্রেক্ষিতে ২৪০ দাগের জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা থাকলেও আজও সেটা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং এসব আইন বা আদেশ অমান্য করে রাতের আধারে বহুতল ভবন নির্মাণ করে যাচ্ছেন আবুল হোসেন।
এসব অভিযোগ নাকচ করে আবুল হোসেন বলেন, ‘আমি আমার কেনা জায়গায় ভবন নির্মাণ করছি। বরং আমি জমি কেনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষকে তাদের জমি সেখানে আছে মর্মে জানিয়েছি। আর সরকারি এত জায়গা থাকতে সরকার এতটুকু জায়গার উপর নজর দিবে এটা আমি বুঝতেছি না। এখানে কলেজের অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িয়ে আছে বলেও তিনি উল্টো অভিযোগ করেন।
জানতে চাইলে ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নজমুল হক বলেন, ‘১৯৬৫ সালের ২৯ মে জমির মালিক জমির আলী মোল্ল্যার কাছে দক্ষিণ বাসুদেবপুর মৌজার ২৪০ নম্বর দাগে ৯৭ শতাংশ জমি ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ তৎকালিন ১ হাজার ৫০০ টাকায় ক্রয় করেন। সেই সময় থেকে বর্গাচাষি নিয়োগ করে কলেজ ভোগ দখল করে আসছিল। কিন্তু পশ্চিম গৌরীপাড়া গ্রামের বাসীন্দা আবুল হোসেন নামে এক ব্যবস্যায়ী সরকারি কলেজের জায়গা দখল করে মিল চাতাল ও বহুতল ভবন নির্মাণ করা শুরু করায় বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর বার বার চিঠি দিয়ে জানানো হয় এবং ফুলবাড়ী থানায় একাধিকবার এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু আবুল হোসেন কাউকে তোয়াক্কা না করে সরকারি কলেজের জমিতে ভবন নির্মাণ করেই চলেছেন।
ব্যক্তি স্বার্থের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার এখানে কোন প্রকার স্বার্থ নেই। কারণ, জমিটা সরকারি কলেজের। এখানে আমি চাইলেও ওই জমিতে কোন ধরণের প্রভাব খাটাতে পারব না। আবুল হোসেন যে অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে করেছেন তা পুরোটাই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
বার্তা বাজার/পি.বি