প্রেমিকের দেয়া মোবাইল নিজের কাছে রাখার অপরাধে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে ফাতেমা (১৩) ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেছেন তারই মা রোববার (১৪ জুন) গভীর রাতে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় বিনোদনগর ইউনিয়নের বড়মাগুড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত মা রহিমা বেগম (৪৩) একই গ্রামের বুলু মিয়ার স্ত্রী। নিহত ফাতেমা ওই এলাকার বিনোদনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল।
এ বিষয়ে বিনোদনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন জানান, এক সপ্তাহ আগে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে সেখান থেকে ফিরে আসেন ৩ দিন আগে। ঘটনার দিন সকালে মেয়ে ফাতেমার কোমরে একটি মোবাইল ফোন দেখতে পায় রহিমা। সেটার কথা জিজ্ঞেস করায় কোনো সন্তোষজনক দিতে পারেনি ফাতেমা।
পরে মেয়ের হাত থেকে মোবাইটি নিয়ে ঘরের শোকেশে তালাবদ্ধ করে রেখে দেয় রহিমা। চলেযান বড় মেয়ের বাড়ি। সেখান থেকে এসে দেখেন শোকেসের তালা ভাঙা। এই নিয়ে মা-মেয়ের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মেয়ের গলায় থাকা ওড়না টান দেয় তার মা। পরে সেখানেই মেয়ে ফাতেমা মারা যায়।
নাবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অশোক কুমার জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রাত ১২টার দিকে লাশ উদ্ধার ও রহিমা বেগমকে আটক করে থানায় আনা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন
ওসি বলেন, রাতেই মেয়ের চাচা আলম হোসেন বাদী হয়ে মা রহিমা বেগমকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মেয়ের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। রহিমা বেগমকে দিনাজপুর জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।এলাকার কোন ছেলে ওই মেয়েটিকে মোবাইল ফোনটি দিয়েছে সেই বিষয়ে খোঁজ খরব নেয়া হচ্ছে বলে ওসি জানান।
বার্তাবাজার/এসজে