করােনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরােধে মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয় উদ্যোগ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন দফতরে চিঠি পাঠিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু।
সোমবার সকালে ওই সংসদ সদস্যের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নে পৌছে দেয় বরগুনা জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাহাব উদ্দিন সাবু।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, মহামারি করােনা ভাইরাসের প্রদুর্ভাবে বাংলাদেশসহ গােটা বিশ্ব এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। সারাদেশের ন্যায় সর্বদক্ষিণের জেলা বরগুনাতেও সংক্রমণের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বরগুনার জনগণকে এই মহামারি থেকে বাঁচাতে প্রয়ােজন সম্মিলিত উদ্যোগ। জীবন ও জীবিকার তাগিদে আমাদের দৈনন্দিন কাজে প্রতিনিয়ত ঘরের বাইরে যেতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় করােনা ভাইসারের প্রভাব থেকে বরগুনাকে সুরক্ষিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকার ঘােষিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলাই সর্বোত্তম উপায়। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে বাংলাদেশের জনগণ এখনও অনান্য দেশের তুলনায় অনেকটা ভালাে রয়েছে। জাতীয় সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে করােনা ভাইরাস মােকাবিলার পাশাপাশি মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপণের জন্য যা যা করনীয় তা করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। সংসদ সদস্য চিঠিতে আরও উল্লেখ করেন, আমরা একদিকে যেমন করােনা মােকাবিলা করবাে। পাশাপাশি দেশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপণ যাতে স্বাভাবিক চলে, মানুষ যেন কষ্ট না পায়, তার জন্য যা যা করনীয় আমি করবাে। ওই চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সরকার ঘােষিত সাধারণ ছুটি শেষে, বরগুনাতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে সাধারণ জনগণ বিভিন্ন প্রয়ােজনে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন। কিন্তু তারা অধিকাংশই মাস্ক ব্যবহারে উদাসীন ও স্বাস্থ্য বিধি উপেক্ষা করছেন।
একদিকে যেমন নিজে ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন, সেই সাথে চারপাশের মানুষকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন। করােনার এই মহামরি থেকে বরগুনার মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে সাধারণ মানুষ ঘরের বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারসহ স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলে তা নিশ্চিতে সম্মিলিত ভাবে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে।
যেমন- মাস্ক ব্যবহার না করলে ক্রেতার কাছে পণ্য বা সেবা বিক্রয় না করা। অর্থাৎ নাে মাস্ক নাে সেল। গণ পরিবহসহ সকল যানবাহনে যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা। সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যাতে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলে তা নিশ্চিতে মনিটরিং জোরদার করা, সকল সরকারি বে-সরকারি অফিসে সেবা গ্রহণের শর্ত হিসেবে মাস্ক ব্যবহারে উৎসাহিত করা, সংক্রামন রােগ (প্রতিরােধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ এর প্রয়ােগ নিশ্চিত করা।
এছাড়াও জনগণকে মাস্ক ব্যবহারসহ সরকার ঘােষিত স্বাস্থ্য বিধির বিষয়ে সচেতন করতে তৃণমূল পর্যায় থেকে মাইকিং, স্থানীয় ক্যাবেল নেটওয়ার্কসহ অন্যান্য প্রচার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে ব্যাপক ভাবে মাস্কের ব্যবহারই পারে করােনা ভাইরাসের সংক্রমন রােধ করতে।
ওই সব বিষয় প্রয়ােজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংসদ সদস্য।
বার্তা বাজার / ডি.এস