ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় এলাকায় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ। এতে নদীভাঙনের মুখে পড়েছে ফসলি জমি, বসতভিটা। এলাকার অর্ধশত পরিবার অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ব্রহ্মপুত্র নদটি ঈশ্বরগঞ্জের উচাখিলা ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে। নদীভাঙনে প্রতি বছর পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি ও বসভিটা। বাস্তুহারা হয়েছে অনেক মানুষ। নদে খননকাজ করে গতি ফেরানোর কাজ চললেও মরিচারচর গ্রামের উত্তরপাড়া, নতুনচর, বটতলা, মরিচারচর মুন্সীবাড়ি, দপ্তর, গাংগিনাপাড়, নামাপাড়া এলাকায় মানুষের ফসলি জমি ব্রহ্মপুত্র গ্রাস করে নিচ্ছে।
কিছু দিন ধরে মরিচারচর উত্তরপাড়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের উজানে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে মরিচারচর উত্তরপাড়া ও নতুনচর এলাকায় অন্তত অর্ধশত পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে।
মরিচারচর উত্তরপাড়া এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রতিরক্ষা বাঁধ ২০১৬ সালে নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বাঁধ নির্মাণের পরের বছরই ভাঙন দেখা দেয়। বিলীন হয়ে যায় বাঁধের বিভিন্ন অংশ। পরে কিছু মেরামত করে বাঁধটি টেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাঁধের বিভিন্ন অংশে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ঝুঁকিতে রয়েছে প্রতিরক্ষা বাঁধটি। এ ছাড়া নদের ভাঙনের কবলে পড়েছে উচাখিলা-মরিচারচর সড়কটিও। এলজিইডির এ সড়কটি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করছে। নদ ভেঙে সড়কের কাছে চলে এসেছে।
মরিচারচর নতুনচর গ্রামের বসিন্দা শামিউল মিয়া শামিম বলেন, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদে ভাঙন শুরু হয়েছে। তাদের এলাকায় ১৫টি পরিবার ভাঙনের কবলে পড়তে যাচ্ছেন। উচাখিলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিরক্ষা বাঁধও ভাঙছে। বাঁধের উজানে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ফসলি জমি।
ইতোমধ্যে ৫০ মিটার ভেতরে প্রবেশ করেছে নদটি। ভাঙনের কবল থেকে নদী পাড়ের বাসিন্দাদের রক্ষার দাবি জানান তিনি। উচাখিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙা-গড়ার খেলার সঙ্গে নদী পাড়ের মানুষের বসবাস। নতুন করে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইউনুস আলী বলেন, ইতোমধ্যে ১০০ মিটার বাঁধ ও উজানের ২০০ মিটার এলাকায় ভাঙনের প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। কিন্তু বাঁধ রক্ষার জন্য ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়েও পাওয়া যায়নি। ফের এলাকাটি পরিদর্শন করে ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ করে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন বলেন, সরেজমিন এলাকাটিতে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
কে.এ.স/বার্তাবাজার