গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ননীক্ষীর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্যর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, আত্মীয়করণের মাধ্যমে ত্রাণ ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
এ নিয়ে একই ওয়ার্ডের নওখন্ডা গ্রামের প্রায় দের শতাধিক ব্যক্তি এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ননীক্ষীর ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য জাহিদ মেম্বার নির্বাচীত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও আত্মীয়করণের মাধ্যমে ওয়ার্ডের গরীব অসহায়দের নামে আসা ত্রাণ, ওএমএসের চাল, ভিজিডি কার্ড, সরকারী ঘর, বয়স্ক ভাত ও গর্ভবতী নারীর নাম দেয়ার কথা বলে টাকা আত্মসাৎ করছেন বলে জানাগেছে। টাকা ছাড়া সরকারী কোন ধরণের সুযোগ সুবিধা পান না এ ওয়ার্ডের অসহায় দরিদ্ররা।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে আরো জানা গেছে, জাহিদ মেম্বারের আত্বীয় ফরিদা বেগমের বাড়ি বামনডাঙ্গা, অমল বৈদ্যর বাড়ি কাজী পাড়া উভয়ই গোহালা ইউনিয়নের হলেও তাদের কে ননীক্ষীর ইউনিয়নের আওতায় দেখিয়ে ত্রান সামগ্রী দেওয়া হয়েছে ।
অভিযোগ রয়েছে ত্রাণ বিতরণের সময়ে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আত্মীয়করণের মাধ্যমে ওয়ার্ডের অসহায় লোকদের তালিকায় নাম না দিয়ে ওয়ার্ড সদস্য জাহিদ তার ছেলে আপন ভাই সহ একই পরিবারের ৬ জন সদস্যের নাম ব্যবহার করে অভিনব কায়দায় অসহায়দের ত্রান আত্মসাত করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, জাহিদ মেম্বার নির্বাচীত হওয়ার পর থেকেই একের পর এক অনিয়ম ও দুনীর্তি করে আসছেন। তার এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই বিভিন্ন ভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে। তার লাঠিয়ান বাহিনীর ভয়ে কেউ কথা বলে না। সে প্রকাশ্যে বলে ৫ বছরের জন্য ক্ষমতায় এসেছে, তার যা মন চায় তাই করবে। রাতের অন্ধকারে সে অন্য মহিলাদের সাথে শরিরিকসম্পর্র্ক করে। কয়েকবার সে গ্রামবাসীর কাছে ধরাও খেয়েছে।
অভিযুক্ত ওয়ার্ড সদস্য জাহিদ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, তিনি কোনো অনিয়ম, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। বয়স্ক ভাতা ও বিধবা কার্ডের জন্য টাকা নেন কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন সুদুত্তর না দিয়ে মোবাইল ফোন কেটে দেন।
পরে সাংবাদিকরা তার ইউনিয়নে গিয়ে এলাকার বাসীর সাথে কথা বলেন এবং অভিযুক্ত ওয়ার্ড সদস্য জাহিদের সাথে তার বাড়ীতে গেলে দেখা পাওয়া যায়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, তাকে শত্রুতামী করে ফাঁসানো হচ্ছে এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
এবিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাঃ তাসলিমা হালিম মুঠফোনে জানান, এখনো পর্যন্ত এধরনের কোনো অভিযোগ আমার কাছে এসে পৌঁছায় নাই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷
বার্তা বাজার/টি.সি