মোবাইল কোর্টের সমালোচনা করায় রোমান হাওলাদারের বিরুদ্ধে মামলা

ফেসবুকে প্রশাসনের সমালোচনা করার অভিযোগ তুলে সিরাজদীখানে বখাটে রোমান হাওলাদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে উপজেলা ভূমি অফিসের পেশকার মোঃ রেজাউল করিম। ওই রোমান হাওলাদারের স্ট্যাটাস, সম্প্রতি মসজিদের সামনে থেকে মাস্ক পরিধান না করায় ৫শ টাকা জরিমানা আদায় করা এসিল্যান্ড করোনায় আক্রান্ত! মুসল্লিরা জরিমানা দিয়ে করোনা মুক্ত নিয়ে স্ট্যাটাসের কারণেই স্থানীয় প্রশাসনের রোষানলে পড়তে হচ্ছে তাকে।

গত ১১জুন বৃহস্পতিবার সিরাজদীখান উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী মোঃ রেজাউল করিম বাদী হয়ে আইসিটি আইনে মামলাটি করেন। রোমান হাওলাদারের বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা সাংবাদিকদেরকে নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মোহাম্মদ এমদাদুল হক।

তিনি বলেন, তদন্ত চলছে, আসামিকে ধরা হবে। সিরাজদীখান উপজেলা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী মোঃ রেজাউল করিমের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বখাটে রোমান হাওলাদারের ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রশাসনকে হেয় করেছে এবং কটাক্ষ করেছে এবং বিচারের রায়কে অবমাননা করেছে। সরকারকে ইসলাম বিরোধী প্রমান করতে চেয়েছেন। ধর্মীয় অনুভ’তিতে আঘাত লাগানোর চেষ্টা করেছেন। প্রশাসনের মানহানি করা হয়েছে যার ফলে সমাজে ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়াতে পারে। আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে।

মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, “ বখাটে রোমান হাওলাদারের তার ফেসবুকে যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তা ইচ্ছাকৃতভাবে জ্ঞাতসারে, আক্রমণাত্মকভাবে মিথ্যা এবং মানহানিকর তথ্য পরিবেশন করেছেন। যা সমাজের বিভিন্ন বিদ্বেষ সৃষ্টি করে জনাব আহম্মেদ সাব্বির সাজ্জাদ সহকারী কমিমনার ভ’মি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিট্রেট সিরাজদীখান,মুন্সীগঞ্জকে কটুক্তি করেণ। এতে তাঁর যে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল করিয়া সামাজিক অবস্থান আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে। এতে প্রশাসনসহ সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও সুধীজন জানান, কয়েক বছর আগে এই বখাটে রোমান হাওলাদার একটা মেয়েকে কুপিয়ে জেলহাজত বাস করেছে। আবার একটি কম্পিউটারের দোকান দিয়ে সিরাজদীখান থানার বিভিন্ন মামলার গোপনীয়তা বাইরের লোকদের সাথে শেয়ার করে দুই পক্ষ হতে দালালী করে টাকা হাতান।

এই রোমান বিএনপি জামাত পন্থি সাংবাদিকদের সহযোগীতায় এলাকার অনেক লোকের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেইসবুকে দিয়ে সমাজে হেয় করে ১০০/২০০ টাকা চেয়ে নেন। অনেকে কম্পিউপারের কোন সমস্যা হলে রোমানের নিকট কম্পিউটার আনলে রোমান কৌশলে সেখান থেকে তথ্য চুরি করে পরে তাদের ব্লাক মেইলিং করে বলেও জানায় অনেকে।

নকল সইমোহরী পর্চাসহ সকল প্রকার জাল কাগজপত্রের তৈরী কওে এই রোমান হাওলাদার। মাদক ব্যবসার সাথেও রয়েছে তার যোগাযোগ। সকল প্রমাণ তার কম্পিউটারে রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাংবাদিক বলেন, সাংবাদিক নামদারী রোমানের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে যারা কমেন্টস করে রোমানকে উৎসাহ দিয়েছে তাদের নামও এ মামলায় অন্তর্ভ’ক্ত করা উচিৎ ছিল এবং যারা লাইক ও শেয়ার দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ ছিল।

সিরাজদীখান প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন বলেন, রোমান হাওলাদার বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি করে আসছে। সিরাজদিখান প্রেসক্লাবে সদস্য পদের জন্য আবেদন করা হলে তার সার্বিক বিষয় বিবেচনা কওে যাচাই বাছাই বোর্ড তার আবেদন না মঞ্জুর করেন।

রোমান হাওলাদার আমার একটি ক্যামেরা চুরি করে তার ঘরে রেখে দেয় মামলা করার ভয় দেখালে তার মা ঘর থেকে আমার লাল রংয়ের সনি ক্যামেরাটি নষ্ট অবস্থায় ফেরত দেয়। উপজেলার এক ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতির কিছু তথ্য জানার জন্য ট্যাকনিক্যালী ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেই। পরে শুনতে পেলাম রোমান হাওলাদার আমার নাম বলে সে নেতার কাছ থেকে বেশ কিছু টাকা নিয়েছে।

এ বিষয়ে রোমান হাওলাদার বলেন, “আমি দেশের নাগরিক হয়ে কিছু সত্য কথা ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্রকাশ করেছি। সত্য বলায় আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হলো, যা কাম্য নয়। তারপরেও স্থানীয় প্রশাসন থেকে আপত্তি জানিয়ে বিষয়টি আমাকে বলা হলে আমি স্ট্যাটাসটি তুলে নেই এবং এসব ভাষা ব্যবহারের জন্য দুঃখ প্রকাশ করি। এদিকে, বখাটে রোমান হাওলাদারের বিরুদ্ধে মামলায় সিরাজদীখান এলাকার কিছু জামায়াত-বিএনপি পন্থি সাংবাদিক উদ্বেগ প্রকাশ করে সেটি তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

কে.এ.স/বার্তাবাজার

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর