মানবতার সেবায় বেতনের টাকা বিলিয়ে দিচ্ছেন এসআই মেহেদী

করোনাকালীন সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি কভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে পালিয়ে থাকারোগীকে খুঁজে বের করা, নিজ দায়িত্বে পালন ও অসহায়দের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণসহ নানা মানবিক কাজেএখন ব্যস্ত সময় পার করছে পুলিশ।

পুলিশে কোন কোন সদস্য আবার এই মহামারির সময়ে আয়ের প্রায় সবটুকুই গোপনে বিলিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন দুস্থদের মাঝে। এমনই এক মানবিক পুলিশ রাজধানীর এয়ারপোর্ট পুলিশ বক্সেরইনচার্জ এসআই মেহেদী হাসান।

যিনি করোনাকালীন এই চারমাসে নিজ বেতনের অর্ধেকই বিলিয়ে দিয়েছেন রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো অসহায় ক্ষুধার্তমানুষের মাঝে। এসআই মেহেদী হাসান এই প্রতিবেদককে বলেন- করোনাকালে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সব কিছু যখনস্থবির হয়ে পড়ে, তখন অনেক মানুষ খাবারের জন্য রাস্তায় নেমে আসেন।

এমনকি রাতেও অনেক মানুষ রাস্তায়নেমে আসে। নিজ চোখে এসব দৃশ্য অবলোকন করতে কারোরই ভাল লাগে না। পুলিশের কাছে খবর আসেকরোনা আক্রান্তদের বাড়িতে খাবার নেই। বাড়ি লকডাউন থাকায় কেউ বের হতে পারছেন না। পুলিশে চাকরিরসুবাদে বাইরে বের হয়ে এমন দৃশ্য দেখে খুব খারাপ লাগে।

তখনই ভাবতে থাকি এসব মানুষের জন্য কিছু একটাকরা যায় কিনা। মানবিকতার টানে আমার সীমিত সামর্থ্যে যেটুকু সম্ভব হয়েছে তা দিয়ে চেষ্টা করছি একটিপরিবারের যেন অন্তত একবেলার ক্ষুধা নিবারণ করা যায়।

ভবঘুরে মানুষ ছাড়াও অসহায় মানুষের বাড়িতেও পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছি খাদ্য সামগ্রী। আমার পরিবারেরসদস্যরাও এই উদ্যোগে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

অনেকেই পুলিশের দোষ গুণ খোঁজায় ব্যস্ত। আলোর নীচে অন্ধকার থাকবেই। রাস্তার পাশে থাকা অচিরন বেওয়া(৫৮) নামের এক বয়স্কা মহিলা জানান- আমি খাবার না পেয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকি। কখন এই পুলিশ স্যারকেদেখতে পাব। তারপর দেখা মাত্রই সামনে গেলেই উনি টাকা দেন অথবা খাবারের ব্যবস্হা করেন।

এমন মানবতার ফেরিওয়ালা, মানুষ ও মানবতার প্রতিক যুগ-যুগান্তর বেঁচে থাকুক আপন মহিমায়। এটাই কামনাকরেন দুস্হ ও অসহায় মানুষেরা।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর