কুয়েতে মানবপাচারের অভিযোগে আটক হওয়া বাংলাদেশের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম পাপুল সংসদের বর্তমান স্বতন্ত্র সদস্য। লক্ষীপুর-২ আসনের এই সাংসদের বিরুদ্ধে মানব পাচার ছাড়াও অর্থপাচার, অবৈধ ব্যবসাসহ হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায় , শহিদুল ইসলাম পাপলু ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আপেল মার্কা প্রতীকে বিএনপির আবুল খায়ের ভূঁইয়াকে পরাজিত করে লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ওই আসনে মহাজোটেরপক্ষ থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ নোমানকে নির্বাচনে এই আসন থেকে সমর্থন দেওয়া হলে পাপলু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। তবে নোমান নির্বাচন থেকে নিজেকে পরবর্তীতে প্রত্যাহার করে নেওয়ায় আওয়ামী লীগ শহিদুল ইসলামকে সমর্থন দেয়।
লক্ষ্মীপুরে পাপুল যে আসনে এমপি হয়েছিলো সেই আসনটি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মহাজোটের অংশীদার জাতীয় পার্টিকে কে ছেড়ে দেওয়া হয়। জাতীয় পার্টি তাদের এক নেতাকে ওই আসনে মনোনয়ন দেয়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা এ আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কুয়েতের ওই ব্যবসায়ী পাপুলও তাদের সাথে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন।
মহা জোটের অন্যান্য শরিকদের মধ্যে কিছু আসন বন্টনের অংশ হিসেবে এ আসনটি জাতীয় পার্টিকে দেওয়া হয়েছিল। এই আসনটি জাতীয় পার্টিকে দেয়ার পেছনেও দলের কিছু নির্বাচনী কৌশল ছিল । দলীয়ভাবে আসনটি জাতীয় পার্টিকে দেয়ার পর একমাত্র পাপুল ছাড়া আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী কোনো ব্যক্তি ওই নির্বাচনে আর প্রার্থী থাকেনি ।
কিন্তু নির্বাচনের প্রায় ১৫/১৬ দিন আগে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নোমান স্বতন্ত্র প্রার্থী পাপুলকে সমর্থন করে নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে দেন এবং তাঁর নেতা কর্মীদের নির্দেশ দেন পাপুল কে সমর্থন করার জন্য।
এই প্রেক্ষাপটে লক্ষীপুরের বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কে অবহিত করেন যে, লক্ষীপুরের ঐ আসনে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তাতে বিএনপি প্রার্থী খুব সহজেই এ আসনে জয়ী হবে কারণ মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির নেতা নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে দিয়েছেন । আর নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী ওই আসনে নতুন করে প্রার্থী দেয়ার কোনো আইনগত সুযোগ নেই।
এদিকে নির্বাচনের সময় মহাজোটের প্রার্থী মাঠ থেকে সরে দাড়ালে লক্ষীপুরের আওয়ামী লীগ নেতারা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কে জানান যে, মাঠে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নেই।
আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ব্যক্তি পাপুল বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বহাল রয়েছে। যেহেতু মহাজোটের প্রার্থী অর্থাৎ জাতীয় পার্টির প্রার্থী পাপুল কে সমর্থন করে নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে চলে গেছেন এবং আওয়ামী লীগের আর কোনো প্রার্থী নেই, তাই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিএনপি’র প্রার্থীকে হারানোর জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষে পাপুল কে সমর্থন ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
এই বক্তব্যটি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে অত্যন্ত যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছিল। আওয়ামী লীগের আর কোনো প্রার্থী না থাকায় এবং বিএনপি যাতে এ আসনে জয় লাভ করতে না পারে, সর্বোপরি, সংখ্যা তত্ত্বের হিসেবে এ আসনটি যাতে বিএনপির বিপক্ষে তথা আওয়ামী লীগের পক্ষে দেখানো যায়, সে কারণে সেদিন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে ওই আসনে বিএনপি কে হারানোর জন্য পাপুলের পক্ষে কাজ করতে বলা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তটি আওয়ামী লীগ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই নেয়া হয়েছিল ।
জানা গেছে , নির্বাচনের সময়ে কাজের সুবিধার জন্য নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সমন্বয়ক ড۔ সেলিম মাহমুদের স্বাক্ষরেই নির্বাচন কমিশন সহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ের পক্ষে সকল পত্র প্রেরণ করা হতো । লক্ষীপুরের নিবার্চন সংক্রান্ত এ চিঠিটি ড.সেলিম মাহমুদের ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে কিংবা ড.সেলিম মাহমদের উদ্যোগে প্রেরণ করা হয়নি।
এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ড. সেলিম মাহমুদ জানান , যথাযথ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তেই এবং যথাযথ ভাবে আদিষ্ট হয়ে তিনি ওই পত্রে স্বাক্ষর করে এটি প্রেরণ করেছিলেন, যা ওই পত্রেই পরিষ্কারভাবে উল্লেখ রয়েছে । তিনি পদাধিকার বলে সমন্বয়ক হিসেবে এ চিঠি প্রেরণ করেছিলেন।
এ পত্রের মাধ্যমে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি কিংবা দলীয় স্বার্থ পরিপন্থী কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। জাতীয় নির্বাচনের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার অব্যবহিত পূর্বে একটি কঠিন সময়ে সর্বোচ্চ সর্তকতা অবলম্বন করে দলীয় স্বার্থ সর্বোতভাবে রক্ষার জন্যই সেদিন এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
ওই সময়ে এই উদ্যোগ নেয়া ছাড়া আর অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। আওয়ামী লীগ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এই উদ্যোগ গ্রহণ না করলে আসনটি বিএনপি’র নিয়ন্ত্রণে চলে যেত। তাই ঐক্য ধরে রাখতে দল থেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে সমস্ত নির্বাচনী বিষয়গুলো দেখভাল করা হতো। -স্বদেশ প্রতিদিন
বার্তা বাজার / ডাব্লিও.ডি