উত্তরখানের অজ্ঞাত মহিলার লাশ সনাক্তঃ গ্রেফতার ৪

সবাই ফেইজবুকে বিভিন্ন রকম পোস্ট করছে। আজ একটি পোস্ট দেখে চোখ আটকে গেল। পোস্টটি করেছেনদক্ষিনখান জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হাফিজুর রহমান (রিয়েল)। তার ফেসবুক স্ট্যাটাসটিবার্তাবাজার পাঠকেদের জন্যে হবুহু তুলে ধরা হল-

সুখে-শান্তিতেই থাকতে চেয়েছিল মেয়েটি।ঘরও বেঁধেছিল একজনের সাথে।কিন্তু শান্তির সুবাতাস বিদ্রোহ করেমেয়েটির সাথে।শুরু হয় ঝড়ো বাতাস।এই বাতাসে টালমাটাল হয়ে যায় সবকিছু।মে মাসের শেষদিকে মাস্ক তৈরিরএকটি কারখানায় কাজ নেয় মেয়েটি।কলিজার টুকরো তিন বছরের মেয়ে কুলসুমকে নিয়ে নতুন স্বপ্নে বিভোর হয়েশুরু হয় সুস্থ-সুন্দর জীবনের পথচলা।

শ্যামল বরণ মেয়েটির শ্যামল ঘেরা কুটিরে শতশত স্বপ্ন থাকা স্বত্ত্বেও জীবনের মধুমাসের কুসুম ছিঁড়ে কোন একগাঁয়ের বধূর যে গান হেমন্ত মুখোপাধ্যায় গেয়েছিলেন গানের সেই মেয়েটির কাহিনী ছিল শিশিরে ভেজা কিন্তু শারমিননামের যে মেয়েটির গল্প আজ বলবো তা শিশিরে নয় বরং রক্তে ভেজা,সারারাত বৃষ্টিতে ভিজে হীম হয়ে যাওয়াএকটা অনাকাঙ্ক্ষিত অজ্ঞাত লাশের গল্প।

উত্তরা বিভাগের উত্তরখান থানা এলাকার বৈকাল রোডের একটি নির্জন স্থানে গত শুক্রবার পাঁচ জুন রাতেই সলিলসমাধি ঘটে এই শারমিনের।মানুষ নামের চারজন অমানুষ,নরপশু পালাক্রমে ধর্ষণ করে ধারালো চাপাতি দিয়েগলার একপাশ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।শনিবার সকালে খবর পেয়ে ছুটে আসে উত্তরখান থানাপুলিশ।খবর দেওয়া হয় সিআইডির ক্রাইম সিনকে।লাশের সুরতহাল সম্পন্ন করে লাশ পাঠিয়ে দেওয়া হয় ঢামেকমর্গে।বিকেলেই আমাদের ডিসি নাবিদ কামাল শৈবাল স্যারের পরামর্শে পিবিআইর মাধ্যমেও আঙুলের ছাপনেওয়ার ব্যবস্থা করি।একসময় লাশের পরিচয় মেলে।মেয়েটির বাবা কোন এক মাধ্যমে খবর পেয়ে মর্গে গিয়ে নিজেরমেয়ের লাশ সনাক্ত করেন।ঘটনা মোড় নেয় এখানেই।তদন্তে আলো আসতে শুরু করে।আমরা আশান্বিত হতেথাকি।

চলুন রবার মূল ঘটনায় যাওয়া যাক।

উত্তরখানের সিদ্ধিরটেক এলাকা।এখানেই হাজী মাহাতবের ভাড়া বাড়িতে পাশাপাশি রুমে চারটি পরিবার ভাড়াথাকতো।ভিক্টিম শারমিন তার বাবা-মা আর একমাত্র মেয়ে কুলসুমকে নিয়ে এখানেই ছিল।একসময় পাশের রুমেরফুরকানের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে শারমিনের;তা একসময় অবৈধ মেলামেশায় রুপ নেয়।এ নিয়ে ফুরকানেরপরিবারেও শুরু হয় অশান্তি।

একদিন ফুরকান জানতে পারে ভিক্টিম শারমিনের সাথে আরো দু’একজনের সম্পর্ক আছে।এসব শুনে ক্ষিপ্ত হতেথাকে ফুরকান।একসময় শারমিনকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার প্লান করে ফুরকান।

প্ল্যান অনুযায়ী পাঁচ জুন শুক্রবার বিকেলে স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে খুব হাসিমুখে শারমিনের সাথে কথা বলতে থাকেফুরকান।শারমিনের সাথে খুব ভালো একটা আলাপ আছে বলে সন্ধ্যা সাতটার পরে গেটের বাইরে দেখা করতেবলে।শারমিন সময় মতো বাইরে বের হলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি নিরজন স্থানে।

সেখানে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ শেষে হুট করে শারমিনের হাত দুটো ওড়না দিয়ে বেঁধে ফেলে মাসুদ নামের একজন।এতে শারমিন বেশ হচকচিয়ে যায়।মাসুদের হুকুমে এক পর্যায়ে ফুরকান হাত ও মুখ চেপে ধরে আর সাইফুল ওআনোয়ার চিপে ধরে পা দু’টো।পরে কোমর থেকে ধারালো চাপাতি চালিয়ে দেয় শারমিনের গলায়।রক্ত যাতে নাছিটকে পড়ে সেজন্য সালোয়ার দিয়ে বেশ কয়েকটি প্যাঁচ দেয় গলার মধ্যে।আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে আসেশারমিনের নিথর দেহ।চাপাতির আঘাতে শারমিনের স্বপ্ন,বাঁচতে চাওয়া,মেয়ে কুলসুমের আদরমাখা মুখ সবকিছুইউড়ে যায় নিমিষেই।

ডিসি উত্তরা নাবিদ কামাল শৈবাল স্যারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রাত-দিন পরিশ্রম করে ঘটনার সাথে জড়িত থাকারঅভিযোগে ইতোমধ্যে জামালপুরের বকশিগঞ্জ থেকে ফুরকান ও উত্তরখানের বিভিন্ন জায়গা থেকে মাসুদ,সাইফুল ওআনোয়ারকে গ্রেফতার করা হয়।এক্ষেত্রে ডিএমপির আইএডি বিভাগ নিরবচ্ছিন্নভাবে দারুণ সহায়তা করেছেআমাদের।দু’জন আসামী আজ বিজ্ঞ আদালতে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার ব্যাপারে তাদের দোষ স্বীকার করে১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছে।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর