অধ্যাপকের লাশ দাফনে স্বজনদের বাঁধা, অন্য এলাকায় দাফন

করোনা উপসর্গে মৃত্যু হওয়া কলেজ শিক্ষককে নিজ বাড়ির লোকজনের বাঁধার মুখে অন্য এলাকায় দাফন করতে হয়েছে। বাড়িতে লাশ নিয়ে গেলে পালিয়ে যান আত্মীয় স্বজনরা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়েনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে।

জানা যায়, রাঙ্গুনিয়ার সৈয়দা সেলিমা কাদের চৌধুরী ডিগ্রি কলেজে জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতে জ্বর শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন এবং সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃতদেহ রাউজানের বাড়িতে নিয়ে গেলে নিজের আত্মীয় স্বজনরা মরদেহ অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামাতে এবং দাফন কাফন সম্পন্ন করতে বাধা দেয়। পরে পরিবারের স্বজনরা মরদেহ নিয়ে গিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় দাফন কাজ সম্পন্ন করে।

এ বিষয়ে মৃতের ছেলে মো. আসিকুল ইসলাম বলেন, আমার চাচাতো ও জেঠাতো ভাইরা দাফন করতে বাধা দেয়। আমার বাবার মরদেহ অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামাতে পর্যন্ত দেয়নি।

তবে এলাকার মুরুব্বি হাজী মো. আব্দুর রব্বান জানান, তার মৃত্যু সংবাদ যখন আমরা জানতে পারলাম পারলাম তখনই এলাকার সবাই একসাথে হয়ে কবর খোঁড়া থেকে শুরু করে সব কাজ করেছি। এরই মধ্যে শুনতে পেলাম তারা চলে যাচ্ছেন। আমরা তাদেরকে থামানোর অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু পারি নি। তবে জানতে পারলাম মরদেহ আসার পর তাদের পরিবারের আত্মীয় স্বজনরা দরজা বন্ধ করে রেখে ছিল।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার উপ পরিদর্শক ইসমাঈল হোসেন জুয়েল বলেন, ‘রাউজানে শিক্ষকের নিজ গ্রাম থেকে মরদেহ নিয়ে আসা হলে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ দাফনের দায়িত্ব নেয়। পরে এলাকার তরুণ এবং গাউছিয়া কমিটির সাহায্যে দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়।’

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর