ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জোড়পুর্বক ঋণের কিস্তি উত্তোলনের সময় বাধা দেওয়ায় বাকবিতন্ডা-হাতাহাতির জের ধরে সাজানো মামলা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত ৮ জুন বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত উপজেলা ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (এসএফডিএফ) এর মাঠ কর্মী পলাশ কুমার সাহা বাদি হয়ে কিস্তি উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় সুদীপ কুমার ও উত্তম কুমার দাশসহ অজ্ঞাত ৪/৫ এর নামে বোয়ালমারী থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে একটি সাজানো মামলা দায়ের করেন।
জানা যায়, এসএফডিএফ এর মাঠকর্মী পলাশ কুমার সাহা করোনাকালীন সাধারণ ছুটি শেষ হলেই, এ মাসের শুরু থেকেই পৌরসভার কলারণ গ্রামের ঋণ গ্রহীতাদের কিস্তি পরিশোধে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। তার জোরাজুরিতে বেশ কয়েকজন ঋণ গ্রহীতা কিস্তি দিতে বাধ্য হয়।
করোনায় উদ্ভূত পরিস্থিতির কারনে চা বিক্রেতা অশোক কুমার দাসের স্ত্রী অনিতা রানী বাড়ী না থাকায় কিস্তি পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করে পরিবারের সদস্যরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের প্রতি রূঢ় আচরণ ও গালিগালাজ করে ওই মাঠকর্মী। এ সময় অনিতা রানীর ভাড়াটিয়া সুদীপ কুমার দাশ গৃহকর্ত্রীর পক্ষ নিয়ে মাঠকর্মীর সাথে কথা বলতে গেলে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন সে, যা হাতাহাতির পর্যায় পৌঁছে যায়। এসময় পলাশ কুমার সাহা তার দায়িত্বশীল শাখা ব্যবস্থাপক হাসানুর রহমান নয়নকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডেকে নেন। ওই ব্যবস্থাপক পৌঁছালেই মাঠকর্মী পলাশ সাহা সুদীপকে লক্ষ্য করে বাঁশের লাঠি নিয়ে ধাওয়া করে। এসময় সুদীপ দাশ অনিতা রানীর ঘরে আশ্রয় নিলে ঘরের দরজা লাথি দিয়ে দরজা ভাঙ্গার চেষ্টা চালায় ওই দুই কর্মকর্তা। তাদের শোরচিৎকারে প্রতিবেশি উত্তম কুমার দাশ এগিয়ে এসে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে তার সাথেও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে তারা। এতে সংস্থাটির শাখা ব্যবস্থাপক হাসানুর রহমান নয়ন ও পলাশ সাহা সামান্য আঘাত প্রাপ্ত হন।
ঘটনার পরপর তারা কয়েকজন ঋণ গ্রহিতাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের নিকট থেকে একটি লিখিত কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেন বলে জানান অনিতা রানী।
ওইদিনই বোয়ালমারী থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন পলাশ সাহা। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে কলারণ গ্রামে করোনাকালীন ঋণ গ্রহিতাদের খোঁজ খবর নিতে গেলে সুদীপ কুমার দাশ ও উত্তম দাশ অকারণে তাদের উপর বাটাম ও বাঁশের লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। এতে সে নীলাফোলা ও রক্তাক্ত জখম প্রাপ্ত হন।
এজাহারে রক্তাক্ত জখমের কথা উল্লেখ করা হলেও বোয়ালমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাঊম জানান, ‘যতদূর মনে পড়ে খুব সামান্য আঘাত ছিল। সম্ভাবত মুখে চড়থাপ্পর ও নখের আচড় ছিল। বড় ধরনের কোন ইনজুরি হয়নি।’
গত ১০ জুন অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলা নথিভূক্ত করে সুদীপ দাশকে গ্রেপ্তার করে বোয়ালমারী থানা পুলিশ।
এ ব্যপারে মুঠোফোনে পলাশ সাহা ও হাসানুর রহমানের নিকট বিষয়টি জানতে চাইলে কিস্তি উত্তোলনের বিষয় অস্বীকার করেন তারা এবং করোনাকালিন গ্রহীতাদের খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন হাসানুর রহমান নয়ন।
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে মামলা করা হয়েছে। এ বিষয়ে স্যারের সাথে কথা বলুন।’’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ বলেন, ‘‘এসএফডিএফ এর দুজন কর্মকর্তা আমার নিকট অভিযোগ দিতে এসেছিল, সরকারি কাজে বাধা দানের কথা বলেছে তারা, আমি তাদের আইনের আশ্রয় নিতে বলেছি। তবে কিস্তি উত্তোলনের ব্যপারটা আমার জানা নেই।’’
উল্লেখ্য, বর্তমানে করোনা ভাইরাসজনিত কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ফলে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের ঋণগ্রহিতাদের ব্যবসা-বাণিজ্য তথা স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বাধাগ্রস্থ হওয়ায় মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি বিধিমালা ২০১০ এর বিধি ৪৪ অনুসরণে গত ১ জানুয়ারি ২০২০ তারিখ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সব ধরনের ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন সরকার।
বার্তা বাজার/টি.সি