পঞ্চগড় ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে অবস্থান করা ৩ জন করোনা রোগিকে করোনা মুক্ত ঘোষণা করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় দেয়া হয়েছে।
তারা হলেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার সীতাগ্রাম এলাকার আজিজার রহমানের ছেলে সাদেকুল ইসলাম (২৬), গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের ঠাটপাড়া এলাকার সমিজ উদ্দিনের ছেলে নাজিম উদ্দিন (২৬) এবং একই এলাকার মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে রিপন আলী (২০)।
বৃহস্পতিবার বিকেলে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের সামনে ছাড়পত্র দেয়ার সময় করোনা জয়ী হিসেবে তাদের ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন। এমনকি তাদের প্রত্যেককে পুষ্টিকর বিভিন্ন ফলের একটি করে ঝুড়ি তুলে দেয়া হয়। করোনামুক্ত হওয়ার ছাড়পত্র তুলে দেন সিভিল সার্জন ডা. ফজলুর রহমান।
এ সময় অন্যদের মধ্যে জেলা পুুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাটসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানা যায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার সীতাগ্রাম এলাকার আজিজার রহমানের ছেলে সাদেকুল ইসলাম গত ১২ মে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরেন। ২৬ মে তার করোনা ধরা পড়ে।
পরদিন তাকে পঞ্চগড় জেলা শহরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়। গত ২ জুন ও ৯ জুন দুই দফায় আবারো তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে দুইবারই তার করোনা নেগেটিভ আসে।
গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের ঠাটপাড়া এলাকার সমিজ উদ্দিনের ছেলে নাজিম উদ্দিন এবং একই এলাকার মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে রিপন আলী গত ১৮ মে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরেন। ২৬ মে তাদের করোনা পজেটিভ আসে। পরদিন তাদেরকেও পঞ্চগড় ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়।
গত ২ জুন ও ৯ জুন দুই দফায় আবারো তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে দুইবারই তাদের করোনা নেগেটিভ আসে। পর পর দুই বার করোনা নেগেটিভ আসায় তাদের আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা স্বাস্য বিভাগ। ছাড়পত্র পেয়ে চোখে মুখে মুক্তির হাসি এই তিন যুবকের।
পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. ফজলুর রহমান বলেন, তারা এখন সম্পূর্ণ সুস্য। করোনা রোগী হিসেবেও তাদের তেমন কোন উপসর্গ ছিলো না। প্রথম পরীক্ষার তাদের করোনা ধরা পড়ে। পরের দুটি পরীক্ষায় তাদের করোনা নেগেটিভ আসে।
তাই তাদের ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত পঞ্চগড় জেলায় করোনা সন্দেহে ১ হাজার ৮১৬ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৫৫ জনের ফলাফল পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ৯৩ জনের করোনা ধরা পড়ে। আক্রান্ত এই ৯৩ জনের মধ্যে মারা গেছেন ২ জন এবং সুস্থ্য হয়েছেন ১৯ জন।
কে.এ.স/বার্তাবাজার