শরণখোলা থানা পুলিশের নির্যাতনের স্বপন (৩৫) নামের এক গার্মেন্ট কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাৎক্ষনিক খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সকালে উপজেলার মধ্য-খোন্তাকাটা গ্রামে।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার মধ্য-খোন্তাকাটা গ্রামের বাসিন্দা নাদের হাওলাদরের ছেলে গার্মেন্টস কর্মী স্বপন ও তার বড় ভাই মোঃ ফুল মিয়া হাওলাদারের সাথে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে একমাস আগে মারপিটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তার বোন রাহিমা আক্তার বাদী হয়ে স্বপনের বিরুদ্ধে বুধবার শরণখোলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় স্বপনকে গ্রেফতারের জন্য সকাল ৭ টার দিকে শরণখোলা থানা পুলিশের এসআই বিশ^জিতের নেতৃত্বে কনেস্টবল সেলিম ও সোহাগ তার বাড়িতে প্রবেশ করে। স্বপনের স্ত্রী শারমিন ঘরের দরজা খুলতেই পুলিশ ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত স্বপনকে বিছানা থেকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে মারধর শুরু করেন। এ সময় শারমিন ও স্বপনের ভাইয়ের স্ত্রী রঞ্জিনা বেগমসহ স্থানীয়রা অনুনয় বিনয় করেও পুলিশের মন গলাতে পারেনি।
প্রত্যাক্ষদর্শী রঞ্জিনা বেগম, পাপড়ি আক্তার, নজু আকন ও আওয়ামীলীগ নেতা প্রভাষক সাব্বির আহমেদ মুক্তা বলেন, পুলিশ সদস্যরা স্বপনকে ঘর থেকে মারতে মারতে রাস্তায় নিয়ে যায় এবং রাস্তায় ফেলে স্বপনকে উপর্যপুরী মারপিট করতে থাকে।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে স্বপন মুঠোফোনে বলেন, তাকে তিন দফায় মারপিট করা হয়েছে। বাড়ি ও রাস্তায় ফেলে মারার পরে তাকে থানায় নিয়ে আসে। থানায় বসে দুইজনে দুই হাত ধরে আর এস আই বিশ্বজিৎ আমাকে বেদম মারতে থাকে। পুলিশের আঘাতে একপর্যায়ে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। এরপর আর কিছু আমার মনে নাই। রাতে দেখি আমি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তী।
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য হাসানুজ্জামান জমাদ্দার বলেন, পুলিশ স্বপনকে খুলনা মেডিকেলে ভর্তি করে রেখে আসার পর আর কোন খোজ নেয়নি। বিষয়টি খুবই অমানবিক।
শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ ফরিদা ইয়াছমিন বলেন, থানা থেকে আজ দুপুরে স্বপন নামের এক যুবককে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ওই রোগীর হার্ট ব্লক হয়ে যাওয়ার কারনে তাকে তাৎক্ষনিক খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এব্যাপারে শরণখোলা থানার এসআই বিশ^জিত কুমার ঘোষ বলেন, তাকে কোন ধরনের নির্যাতন করা হয়নি। স্বপনকে আটকের পর তিনি গাড়ীতে উঠতে চায়নি বলে ২/১ টি চড় থাপ্পড় দেয়া হয়েছে।
শরণখোলা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস.কে আব্দুল্লাহ আল সাইদ বলেন, স্বপনসহ তার পরিবরের সবাই হার্টের রোগী। পুলিশ তাকে আটক করলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে, পরিবারের পক্ষ থেকে ওই পুলিশ সদস্যদের ব্যাপারে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বার্তা বাজার/টি.সি