বালু উত্তোলনের জন্য বালু মহাল ইজারা না হলেও গোপনে কয়েকটি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন চলছে ব্রহ্মপুত্র নদের ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ অংশে। গত কয়েকদিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে এলাকার নিচু জমি ভরাটের কাজ করছেন স্থানীয় ড্রেজার ব্যবসায়ী। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বস দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
চলতি বছর ময়মনসিংহ জেলার ১৪ টি বালু মহালের কোনোটি থেকেই বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেয়নি জেলা প্রশাসন। ব্রহ্মপুত্র নদের ঈশ্বরগঞ্জের মরিচারচর বালু মহালটিও ইজারার আওতাভুক্ত থাকতো। কিন্তু এ বছর সরকারি ভাবেই ইজারা দেওয়া হয়নি। বালু মহালটি থেকে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন না হলেও লোচক্ষুর অন্তরালে গোপনে কয়েকটি ড্রেজার বসিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উচাখিলা ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে কামাল হোসেন ও তার ভাই নূরুল হক মিলে বালু উত্তোলন করাচ্ছেন।
খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে ওই এলাকায় গেলে স্থানীয়রা জানায়, অন্তত ২০ বছর ধরে কামাল হোসেন ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ব্যবসার সাথে জড়িত। বালু মহাল ইজারা দেওয়া হলে ইজারাদারের সাথে চুক্তি করে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে দেয় কামাল। কিন্তু চলতি বছর বালু মহাল ইজারা না হওয়ার সুযোগে কামাল একাই বালু তুলতে শুরু করেন।
বুধবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায় নদী থেকে অন্তত এক হাজার মিটার দূরে পাইপ লাগিয়ে কয়েকটি নিচু জায়গা বালু উত্তোলন করে ভরাট করা হয়েছে। ৪ টাকা ফুট হিসেবে মানুষের বাড়ির নিচু জমি ভরাট করে দেওয়া হচ্ছে। নদীতে গিয়ে কয়েকটি ড্রেজার পাওয়া গেলেও কোনো লোকজন পাওয়া যায়নি। অদূরে শ্রমিকরা নৌকা দিয়ে বালু তোলছিলেন।
নূরুল হক বলেন, এবার বালু মহাল ইজারা না হওয়ায় তারা বালু উত্তোলন বন্ধ রেখেছিলেন। গত ১০ দিন আগে ড্রেজার বসিয়ছেন কিছু মানুষের জমি ভরাট করে দিচ্ছেন।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন বলেন, ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বার্তা বাজার / ডি.এস