বাঙ্গরায় চাঁদা না পেয়ে দোকানে তালা দিয়ে হত্যার হুমকি

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানা এলাকায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় দোকানে তালা দিয়ে একমাত্র ছেলেকে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন আন্দিকুট ইউনিয়নের জাড্ডা গাবতলী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, জাড্ডা গাবতলী বাজার এলাকার মৃত আবদুল কাদিরের ছেলে হেলাল (৪০), ইব্রাহিম (৪২), ইসমাইল (৪৪), মোসলেম মিয়া (৪৮), আলাল মিয়া ও তাদের আরো ৬জন সহযোগী একই এলাকার শহিদ মিয়ার ছেলে গফুর মিয়া ও মেয়ে মাকসুদা আক্তারের সাথে ক্রয়কৃত জমি সংক্রান্তর জের ধরে বিভিন্ন সময় মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিলো। গত ১৪ই মে হেলাল ও তার লোকজন জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আর ঝামেলা করবে না এই মর্মে মাকসুদা আক্তারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ ঘটনার পর গত ১৬ই মে আবারো হেলাল চাঁদার টাকা চাইলে মাকসুদা টাকা দিতে অস্বীকার করে। তখন হেলাল ও তার লোকজন মাকসুদাকে হুমকি প্রদান করে যদি টাকা না দেয়া হয় তাহলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া তার একমাত্র ছেলে পারভেসকে মেরে ফেলবে। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় গফুর জাড্ডা গাবতলী বাজারে তার দোকানের ভাড়া আদায় করতে গেলে সেখানে হেলাল ও তার সঙ্গীরা গফুরকে বেধড়ক মারধর করে দোকানে তালা দিয়ে দেয়। পরে এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন গফুর। আর সেই অভিযোগ করাতে আরো বেপরোয়া হয়ে যায় হেলাল বাহিনী। তারা বিগত ১৫দিন যাবৎ গফুর ও তার পরিবারের লোকজনকে জাড্ডা গাবতলী বাজার এলাকায় ঢুকতে দিচ্ছেনা দেখলেই লাঠিসোটা দিয়ে মারতে যাচ্ছে। তাই ভয়ে এখন নিজ বাড়ীতে বন্দি প্রায় গফুর ও তার বোন মাকসুদা আক্তারের দুইটি পরিবার।

এ বিষয়ে গফুর মিয়া বলেন, আমার বাবা হেলালের চাচার কাছ থেকে জমি ক্রয় করেছে প্রায় ১০ বছর হয়। সেখানে গত ৯ বছর আগে একটি দালান নির্মাণ করে দোকান ভাড়া দিয়ে আসছি। কোন কারণ ছাড়াই হেলাল ও তার লোকজন আমার বোনের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করে। আমার বোন মাকসুদা চাঁদার ৫ লাখ টাকা দিতে অস্বীকার করলে হেলাল তার ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ ঘটনার পরদিন আমি দোকানের ভাড়া আদায় করতে গেলে হঠাৎ হেলাল আমাকে বলে দোকানের ভাড়া নাকি সে নিবে, আমি কারণ জানতে চাইলে সে বলে দোকান ভাড়া নিতে হলে তার সাথে সমযোতা করতে হবে। তখন সে আমাকে বেধড়ক মারধর করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়।

পরে পুনরায় একই গ্রামে আমার বোন মাকসুদার শশুর বাড়িতে গিয়ে তার থাকার ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় আমি একটি লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরে তারা আমাদের যতেষ্ট সহযোগীতা করলেও আমাদের বাড়ী থানা এলাকার একদম শেষ প্রান্তে হওয়ায় বর্তমানে ওই চাঁদা বাজদের ভয়ে ঘর থেকে বেরহতে পারছি না। পরিচিত লোকদের দিয়ে বাজার সদাই করে আনতে হচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা বাঙ্গরাবাজার থানার এএসআই জসিম উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমি জাড্ডা গাবতলী বাজারের গফুরের দোকানে দেয়া তালা উদ্ধার করেছি। তবে কে বা কাহারা এ তালা দিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরবর্তীতে গত কয়েকদিন আগে আবার গফুর আমাকে ফোনকরে বলেন তার প্রতিবেশি হেলাল, মোসলেমরা তাকে নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে আমি খোজ খবর নিচ্ছি যদি সত্যিকার অর্থে তারা গফুরকে হুমকি দিয়ে থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বার্তা বাজার / ডি.এস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর