২১, জুলাই, ২০১৮, শনিবার | | ৮ জ্বিলকদ ১৪৩৯

বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম হবিগঞ্জের বানিয়াচং

আপডেট: জুলাই ৩, ২০১৮

বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম হবিগঞ্জের বানিয়াচং

ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব নিদর্শন বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচং। গ্রামটিতে জন্ম নিয়েছেন কয়েকজন দেশবরেণ্য মহান ব্যক্তি। তাদের মধ্যে কেউ আবার বিশ্বজয়ও করেছেন। সৃষ্টিকর্তা যেন নিজে অকৃপণ হস্তে সবকিছু দান করেছেন। তারপরও গ্রামটিতে উন্নয়নের ছোঁয়া তেমন লাগেনি। ৩২ দশমিক ৪৩ বর্গমাইল আয়তনের গ্রামটিতে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার লোক বসবাস করে। এর বেশির ভাগ লোক কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। ঐতিহাসিক কমলারানীর সাগরদীঘি, লক্ষ্মীবাউরের জলাবন, রাজবাড়ী, বাইসাইকেলে প্রথম বিশ্ব ভ্রমণকারী ভূ-পর্যটক রামনাথ বিশ্বাসের বাড়ী, মোগল আমলের প্রাচীন মসজিদসহ রয়েছে অনেক পুরাকীর্তি, যা দিয়ে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। ১৯৯৭ সালের ১৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় এলআর হাইস্কুল মাঠের জনসভায় সাগরদীঘিকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। দিনাজপুরের রামসাগরের আদলে সাগরদীঘির পাড়েও পর্যটন পার্ক গড়ে তোলা হবে বলে তিনি বলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রায় ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে আলোর মুখ দেখেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, দর্শনীয় স্থানগুলো নিয়ে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে পাল্টে যেত গ্রামটির অর্থনৈতিক চিত্র। সরকারেরও রাজস্ব আয় হতো কোটি টাকা। বিখ্যাত বহু ব্যাক্তিত্বের জন্ম নগরী বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচংয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার হার সন্তোষজনক নয়। এই গ্রামের শিক্ষার হার মাত্র শতকরা ৫৮ ভাগ। পঞ্চাশ খ্রিস্টাব্দে বানিয়াচং গ্রামের গোড়াপত্তন হয় বলে ধারণা। সাধারণত কয়েকটি পাড়া বা মহল্লা নিয়ে গঠিত হয় গ্রাম। কিন্তু এই সংজ্ঞাকে অচল করে দিয়ে ১২৮টি পাড়া নিয়ে গঠিত এই বৃহত্তম গ্রামটি, যার আয়তন ৩২ দশমিক ৪৩ বর্গমাইল। চারটি ইউনিয়ন পরিষদে বিভক্ত গ্রামটির জনসংখ্যা ১ লাখ ২৫ হাজার। গ্রামে হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের বসবাস। অনাধিকাল ধরে এই দুই সম্প্রদায়ের মাঝে চলে এসেছে সামাজিক সম্প্রীতি। আশি ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত।

সম্প্রতি প্রবাসীর সংখ্যা বেড়েছে বহুগুণে। বিদেশি আয় (রেমিট্যান্স) আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অন্যতম অবদান রাখছে। জানা গেছে, একসময় পৃথিবীর বৃহত্তম গ্রাম ছিল যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো। তখন বানিয়াচং ছিল এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম গ্রাম। শিকাগো নগরে রূপ নেওয়ায় আয়তন ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে বানিয়াচং। ড. শেখ ফজলে এলাহী তার ‘বানিয়াচং বৃত্তান্ত’ বইয়েও গ্রামটি বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম উল্লেখ করেছেন। সুলতানি আমলে করদ রাজ্য ও মোগল আমলে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থেকে স্থানান্তরিত লাউর রাজ্যের রাজধানী ছিল বানিয়াচং। দ্বাদশ শতাব্দীতে গ্রামটিতে কমলারানী দিঘি খনন করেন রাজা পদ্মনাভ। ৬৬ একর আয়তনের কমলারানী দিঘি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দীঘি হিসেবে স্বীকৃত। সাগরের মতো বিশাল হওয়ায় অনেকে সাগরদীঘিও বলে থাকেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পল্লীকবি জসীম উদ্দীন বানিয়াচং পরিদর্শনে এলে সাগরদীঘির প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন এবং এর পাড়ে বসে ‘ও রানী কমলাবতীর দীঘি’ নামে একটি কবিতা লিখেছেন।

এ ছাড়া গ্রামটিতে মজলিশ খাঁর দিঘি, ঠাকুররানীর দিঘি, দেওয়ান দিঘি ও জামাল খাঁর দিঘি নামে চারটি দিঘি রয়েছে। পুরানবাগ মসজিদ, বিবির দরগা, কালিকাপাড়া, দুই নম্বর (রাজবাড়ী) মসজিদ, রাজবাড়ীর ধ্বংসাবশেষ, জয়কালি মন্দির, শ্যামবাউলের আখড়া প্রাচীন স্থাপত্যের নির্দশন হিসেবে এখনো দণ্ডায়মান। তবে এসব প্রাচীন ঐতিহ্য রক্ষার কোনো উদ্যোগ নেই সরকারি বা বেসরকারিভাবে। বৃহত্তম এই গ্রামটিতে যারা জন্ম নিয়ে দেশ ও বিশ্ববরেণ্য হয়েছেন, তারা হলেন বাইসাইকেলে প্রথম বিশ্ব ভ্রমণকারী ভূ-পর্যটক রামনাথ বিশ্বাস, নাইট উপাধিতে ভূষিত ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান স্যার ফজলে হাসান আবেদ, মাস্টারদা সূর্যসেনের সহযোদ্ধা দুই সহোদর স্বর্গীয় হেমসেন, সুশীল সেন, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সহযোদ্ধা মরহুম মৌলভী আবদুল্লাহ, সাবেক মন্ত্রী ও সাংবাদিক সিরাজুল হোসেন খান, কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী, কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম।

এ ছাড়া রয়েছেন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের এমডি রজত মোহন নাগ।

এক নজরে হবিগঞ্জ জেলা

সুফি সাধক হজরত শাহজালাল (র.)-এর অনুসারী সৈয়দ নাসির উদ্দিন (র.)-এর পুণ্যস্মৃতি বিজড়িত খোয়াই, করাঙ্গী, সুতাং, বিজনা, রত্না প্রভৃতি নদী বিধৌত হবিগঞ্জ একটি ঐতিহাসিক জনপদের নাম। ঐতিহাসিক সুলতানসী হাবেলীর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ সুলতানের অধস্তন পুরুষ সৈয়দ হেদায়েত উল্লাহর পুত্র সৈয়দ হবিব উল্লাহ খোয়াই নদীর তীরে একটি গঞ্জ বা বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। তার নামানুসারে হবিবগঞ্জ থেকে কালক্রমে তা হবিগঞ্জে পরিণত হয়। ইংরেজ শাসনামলে ১৮৬৭ সালে হবিগঞ্জকে মহকুমা ঘোষণা করা হয় এবং ১৮৭৮ সালে হবিগঞ্জ মহকুমা গঠন করা হয়। আসাম প্রাদেশিক সরকারের ২৭৩নং নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ১৮৯৩ সালের ০৭ এপ্রিল হবিগঞ্জ থানা গঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৬০ সালে সার্কেল অফিসারের (উন্নয়ন) অফিস স্থাপিত হয় এবং সর্বশেষ ১৯৮৪ সালের ০১ মার্চ (১৭ ফাল্গুন ১৩৯০ বাংলা) জেলায় উন্নীত হয়।

অবস্থান : ২৩৫৭” হতে ২৪৪২ “উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১১০” হতে ৯১৪০” পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। আয়তন : ২৬৩৬.৫৮ বর্গকিলোমিটার। সীমানা : উত্তরে সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলা, পূর্বে মৌলভীবাজার জেলা, দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য এবং পশ্চিমে কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা। জনসংখ্যা : ২০,৮৯,০০১ জন (সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী সমন্বিত) : পুরুষ- ১০,২৫,৫৯১ জন ও মহিলা- ১০,৬৩,৪১০ জন। জনসংখ্যার ঘনত্ব : প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৭৯২ জন। শিক্ষার হার : ৪০.৫০%। পরিবারের সংখ্যা : ৩,২১,৯০০টি। ভূমিহীন : ২৩%। উপজেলা : ০৮টি (হবিগঞ্জ সদর, লাখাই, মাধবপুর, চুনারুঘাট, বাহুবল, নবীগঞ্জ, বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ)। প্রশাসনিক থানা : ০৯টি (শায়েস্তাগঞ্জসহ)। নৌ-থানা : ২টি। মাদনা (লাখাই) ও মারকুলী (বানিয়াচং)। পৌরসভা : ০৬টি (হবিগঞ্জ সদর, মাধবপুর, চুনারুঘাট, নবীগঞ্জ, শায়েস্তাগঞ্জ ও আজমিরীগঞ্জ)। ইউনিয়ন পরিষদ : ৭৭টি। কৃষি আবাদী জমি : ১,৫৪,৯৫৩ হেক্টর (মোট জমির ৬০.২২%)। বনভূমি : ১১,৬৪৪ হেক্টর (মোট জমির ৪.৫৩%)। চা-বাগান : ২৪টি। মোট আয়তন- ১৫,৭০৩.২৪ হেক্টর। ২৪টি চা বাগান থেকে বছরে প্রায় এক কোটি কেজি চা পাতা উৎপন্ন হয়। রাবার বাগান : ৩টি। এছাড়া হবিগঞ্জে বহু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। তথ্য সূত্র : হবিগঞ্জ জেলা তথ্য বাতায়ন

হবিগঞ্জ নিয়ে বিশেষ সাক্ষাৎকার

বহুমাত্রিক বৈশিষ্ট্যময় একটি জেলা

মাহমুদুল কবীর মুরাদ, জেলা প্রশাসক, হবিগঞ্জ জেলা

নদী, হাওর-বাঁওড়, টিলা ও বিস্তীর্ণ সমতলভূমি, সুদৃশ্য চা বাগান, প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রাচুর্য এবং প্রাকৃতিক নৈসর্গে ঘেরা বহুমাত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবিগঞ্জ জেলাকে একখণ্ড বাংলাদেশ বললেও অত্যুক্তি হবে না। ধর্মীয় ও মুক্তিযুদ্ধের ভাবগাম্ভীর্যের নিরিখে হবিগঞ্জ একটি অত্যন্ত পবিত্র স্থান। দেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা ছাড়াও রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র এবং হবিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ড থেকে প্রতিদিন মোট ১৫৩৪ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে জোগান দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের দৈনিক চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি। মনিপুরী সম্প্রদায়ের রাস উৎসব ও খাসিয়াসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের পূজা পার্বণ সংস্কৃতিতে বহুমাত্রা যোগ করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অঞ্চলের উন্নয়নে নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন। পর্যটক এবং ভ্রমণপিপাসুদের জন্য হবিগঞ্জ একটি অতি পরিচিত নাম। এই জেলার সীমান্ত ঘেঁষা মাধবপুর, চুনারুঘাট, বাহুবল এবং নবীগঞ্জ উপজেলার ২৩টি চা বাগানের মনোরম দৃশ্য এবং চা বাগানের ভেতর দিয়ে পটে আঁকা ছবির মতো আঁকাবাঁকা পথ ভ্রমনপিপাসুদের মনপ্রাণকে আকৃষ্ট করে। জেলার আনাচেকানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে প্রাচীন স্থাপত্যের অসংখ্য নিদর্শন।

জেলার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করছি

আলহাজ জি. কে গউছ, মেয়র, হবিগঞ্জ পৌরসভা

১৮৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জ পৌরসভার রয়েছে ১৩৭ বছরের দীর্ঘ পথ পরিক্রমার ইতিহাস। ৯.০৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় রয়েছে প্রায় এক লাখ লোকের বসবাস। ২০০৪ সালে আমি প্রথম পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই হবিগঞ্জ পৌরসভাকে জনগণের সহযোগিতায় নতুন করে ঢেলে সাজিয়ে আসছি। চেয়ারম্যান ও মেয়র হিসেবে আমি পর পর তিনবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হই। পৌরসভার উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করার কারণে জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেন। নিয়মিত নাগরিক সেবা প্রদান ও অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়াও এ পৌরসভায় আমি ব্যতিক্রমী জনকল্যাণমুখী কর্মসূচির প্রচলন করেছি, যা সর্বমহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। মহিলাদের জন্য মাদার কর্নার নির্মাণ ও মহিলা ঘাটলা নির্মাণ, প্রতিমা বিসর্জনের সুবিধার জন্য পৌর ঘাটলা নির্মাণ, বছরে দুটি ঈদে পৌর এলাকার সব মসজিদের খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা প্রদান, দুর্গা পূজায় পৌর এলাকার প্রতিটি পূজামণ্ডপে পৌরসভার বিশেষ অনুদান ইত্যাদিও হবিগঞ্জ পৌরসভার ব্যতিক্রমী উদ্যোগগুলোর অন্যতম। আমি দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে জেলার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করছি।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক

বিধান ত্রিপুরা, পিপিএম-বার, পুলিশ সুপার, হবিগঞ্জ

পুণ্যভূমি সিলেটের প্রবেশদ্বার ও মুসলিম জাগরণের সিংহ পুরুষ সিপাহসালার সৈয়দ নাছির উদ্দিন (রহ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত জেলা হবিগঞ্জ। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যেও রয়েছে এ জেলার ঐতিহ্য। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা চা-বাগান, পাহাড়, টিলা, হাওর-বাঁওড়সমৃদ্ধ এ জেলা এখন পরিচিতি পেয়েছে শিল্প এলাকা হিসেবে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত কয়েক বছরে গ্যাস ও বিদ্যুৎসমৃদ্ধ এ জেলায় বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠেছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর হওয়ায় দিনে দিনে এ অঞ্চলে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়তে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে।

এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জেলায় ০৯টি থানা, ০৬টি তদন্ত কেন্দ্র, ০৭টি ফাঁড়ি, ০৩টি নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ও ০৬টি পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে। শিল্পাঞ্চল থেকে প্রত্যন্ত এলাকা- সর্বত্রই আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে আরো সেবা প্রদানে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশের খবর পত্রিকার মাধ্যমে এ জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য আর উন্নয়নের চিত্র বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে বলে প্রত্যাশা করি।

শিল্পাঞ্চলে পরিণত হচ্ছে এ জেলাটি

মো. মোতাচ্ছিরুল ইসলাম, প্রেসিডেন্ট, চেম্বার অব কমার্স, হবিগঞ্জ

গ্যাস, বিদ্যুৎ, চা বাগান, পাহাড়, নদী-নালা, হাওর-বাঁওড় বেষ্টিত এক সমৃদ্ধিশালী জেলার নাম হবিগঞ্জ। ইতোমধ্যেই সেসব সম্পদকে ব্যবহার করে পুরো জেলায় শিল্পবিপ্লব শুরু হয়েছে। দেশের বৃহৎ কোম্পানিগুলো এখানে কারখানা গড়ে তুলেছে। এতে অর্থনীতির চাকা যেমন সচল হয়েছে, তেমনি সৃষ্টি হচ্ছে লাখো মানুষের কর্মসংস্থানো। ফলে জেলাটি খুব দ্রুত অন্যতম এক শিল্পাঞ্চলে পরিণত হচ্ছে। তাই হবিগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে শিল্প বিকাশের এ যাত্রায় সহযোগীর ভূমিকা পালন করছে।

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সহজলভ্য, জমির দাম কম এবং ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হওয়ায় মাধবপুর, শায়েস্তাগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠছে শিল্পকারখানা। স্কয়ার, যমুনা, আর এ কে সিরামিক, প্রাণ, স্টার সিরামিক, বাদশা গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ, বেঙ্গল গ্রুপের মতো দেশের বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো এখানে কারখানা গড়ে তুলছে। ফলে লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থানসহ এলাকাটি দ্রুত শিল্প এলাকায় পরিণত হচ্ছে। এ ছাড়াও ভারতের সীমান্তবর্তী চুনারুঘাটে বাল্লা স্থলবন্দরটিতে আমদানি-রফতানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।