ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়নের গাজীরচট শের আলী মার্কেট এলাকায় রাস্তার বেহাল দশায় জনগনের ভোগান্তির শেষ নেই। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে গাজীরচটের মৌসুমী মার্কেট, হক মার্কেট এবং শের আলী মার্কেট সংলগ্ন রাস্তাগুলো সরেজমিন দেখে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, ভাঙ্গা রাস্তাগুলোতে পানি জমে আছে। ওই কাদাপানির ভিতর দিয়ে এলাকাবাসী এবং যানবাহন চলাচল করছে। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে এই রাস্তাগুলোর সর্বশেষ সংস্কার করা হয়েছিলো।
এসময় হক মার্কেট এলাকার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আফাজউদ্দিন বলেন, এইটাই আমাদের চলাচলের একমাত্র রাস্তা। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই রাস্তার উন্নয়নের জন্য জনপ্রতিনিধিদের বলেও কিছু করাতে পারিনি। তাই আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের চলাচলের এই একটি মাত্র রাস্তা সংস্কারের জন্য আবেদন করছি।
হক মার্কেটের ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম জানান, আমাদের যেহেতু এই একটি মাত্র রাস্তা, এটা ব্যবহার করেই ব্যবসা-বাণিজ্য সহ স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের যাতায়াত করতে হয়। বিশেষকরে বর্ষাকালে এখানে হাঁটু পানি হয়। তখন ছাত্রছাত্রীদের জুতা ও পোষাক নোংরা পানিতে ভিজে যায়। আমরা অনেকের কাছে এই রাস্তা সংস্কারের জন্য গেলেও তারা শুধু আশ্বাস দিয়েছেন; কিন্তু রাস্তার সংস্কার হয়নি। দেশে বর্তমানে যে মহামারি চলছে, এসময় এই রাস্তার কারণে আমরা কোনো সংকটাপন্ন রোগী হাসপাতালে আনা নেয়া করতেও যথেষ্ট বেগ পাচ্ছি। যদি কোথাও আগুন লাগে তখন ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও আসতে কষ্ট হয়। এছাড়া এই ভাঙ্গা রাস্তার কারণে রিক্সার ভাড়াও আমাদেরকে দ্বিগুণ পরিমাণে দিতে হয়।
তিনি আরও জানান, অনেক দূর-দূরান্ত থেকে আমাদের আত্মীয়স্বজনরা এলে এই বেহাল রাস্তার কারণে রিক্সাওয়ালারাও তাদেরকে এখানে আনতে চায় না। এরকম নানাবিধ সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে কেবল এই ভাঙ্গা রাস্তার কারণে। আমরা অতিসত্বর এই রাস্তার উন্নয়ন করার জন্য জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট আবেদন জানাই।

হক মার্কেটের আরেকজন ব্যবসায়ী শিপন জানান, অনেক বছর ধরেই এই রাস্তার বেহাল দশায় আমরা কষ্ট পাচ্ছি। বিগত বিএনপি সরকারের আমলে সর্বশেষ এই রাস্তার কাজ হয়েছিলো। এরপর আর কোনো সংস্কার হয়নি। বৃষ্টির মওশুম শেষ হলেও এখানে সবসময়েই পানি জমে থাকে। রাস্তার সংস্কারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে অনেকবার জানালেও তিনি কোনো উদ্যোগ নেননি বলেও জানান বাজার কমিটির অন্যতম সদস্য শিপন।
একজন নারী অভিভাবক জানান, এই এলাকার সবার চলাচলের এই একটিই রাস্তা। এখান দিয়ে যারা অফিস-আদালতে যান তাদের সমস্যা, আমাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়া-আসায় সমস্যা, মোটকথা সমস্যার কোনো শেষ নেই। আমাদের ছেলেদের সাইকেলের টায়ার নষ্ট হয়ে যায়, ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে এখন আর জুতা ব্যবহার না করে পায়ে পলিথিন ব্যবহার করে স্কুলে যায়! আমরা অভিভাবকেরা ও বাচ্চাদের সাথে স্কুলে যেতে এই নোংরা পঁচা পানি মাড়িয়ে যাই। ফলে বিভিন্ন চর্ম ও জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছি আমরা। আরেকটি সমস্যা হলো পানি নিষ্কাশনের সমস্যা, ড্রেনেজ সিস্টেম নেই এখানে, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে অতিরিক্ত পানি যাবে কিভাবে? রাস্তা নাহয় উঁচু করা হলো, কিন্তু ড্রেন না থাকলে পানি কিভাবে কোথায় যাবে? এইসব সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য আপনাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এব্যাপারে ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম এবং সাভার উপজেলা প্রকৌশলী সালেহ হাসান প্রামাণিক এই দু’জনের সাথে যোগাযোগ না করতে পারায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বার্তা বাজার / ডি.এস