৭১’র এই দিনে বিশ্ব জেনেছিল বাংলার দামাল ছেলেরা আর শান্ত নেই

১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে বিশ্ববাসী পুরোপুরিভাবে প্রথম জানতে পেরেছিল বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে। ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি সাংবাদিকরা জেনেছিল রাইফেল হাতে বাংলার ছেলেরা যুদ্ধের ময়দানে বুক চিতিয়ে লড়াই করছে। আহত বাঘের মতো ভয়ানক থাবা বসাতে ঘর ছেড়েছে একদল অল্পবয়সী তরুণ।

১৯৭১ সালে ২নং সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নির্দেশনা ছিলো হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে বিদেশী সাংবাদিক ও অতিথিরা থাকাকালীন ঢাকা শহরের পরিস্থিতি যে শান্ত নয় এবং এখানে যুদ্ধ চলছে তা বোঝানোর জন্য শহরের আশে-পাশে কিছু গ্রেনেড ও গুলি ছুড়তে হবে। কিন্তু দু:সাহসী কিছু তরুণ ঢাকায় এসে ৯ জুন তারিখে সরাসরি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে গ্রেনেড হামলা করেন এবং বেশ কয়েকজনকে হত্যা করেন, যা ছিলো অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ ও অচিন্তনীয় কাজ।

সেদিন সন্ধ্যায় বিবিসির খবরে প্রচার হয় এই হামলার কথা। কারণ সেখানে অনেক বিদেশি সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
খালেদ মোশাররফ এই অপারেশনের কথা জানতে পেরে বলেন, ‘দিজ অল আর ক্র্যাক পিপল! বললাম, ঢাকার বাইরে বিস্ফোরণ ঘটাতে আর ওরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালেই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এসেছে।’ তিনিই প্রথম এই দলটিকে “ক্র্যাক” আখ্যা দেন; যা থেকে পরবর্তীতে এই প্লাটুনটি “ক্র্যাক প্লাটুন” নামে পরিচিত হয়।

এই গেরিলা দলটিতে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম কয়েকজন হলেন:
শহীদ আবদুল হালিম চৌধুরী জুয়েল (বীর বিক্রম),আজম খান, আলী আহমেদ জিয়াউদ্দিন(বীর প্রতীক), কাজী কামাল উদ্দিন (বীর বিক্রম), কামরুল হক স্বপন (বীর বিক্রম), গোলাম দস্তগীর গাজী(বীর প্রতীক), নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু,
শহীদ বদিউজ্জামা্‌ন, বদিউল আলম বদি, (বীর বিক্রম), শহীদ মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজা্‌দ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বীর বিক্রম), রাইসুল ইসলাম আসাদ, শহীদ শফি ইমাম রুমী, সাদেক হোসেন খোকা, হাবিবুল আলম, (বীর প্রতীক)।

 

 

ছবি-ইন্টারনেট

পাঁচ হতে ছয় জনের এক একটি গ্রুপ তৈরী করে হিট এন্ড রান পদ্ধতিতে ঝটিকা আক্রমণ করে এই গেরিলা দলটি অপারেশনে অংশ নিতো। ঢাকা শহরে তারা মোট ৮২টি অপারেশন পরিচালনা করেন। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো- অপারেশন হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল, অপারেশন ফার্মগেট চেক পয়েন্ট, অপারেশন গ্যানিজ পেট্রল পাম্প, অপারেশন দাউদ পেট্রল পাম্প, অপারেশন এলিফ্যান্ট রোড পাওয়ার স্টেশ্‌ অপারেশন যাত্রাবাড়ী পাওয়ার স্টেশন, অপারেশন আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন, অপারেশন সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন, অপারেশন উলন পাওয়ার স্টেশন, অপারেশন তোপখানা রোড ইউএস ইনফরমেশন সেন্টার, অ্যাটাক অন দ্য মুভ, ডেস্টিনেশন আননোন।

মুক্তিকামী ক্র্যাক প্লাটুনের বেশ কয়েকজন গেরিলা ১৯৭১ সালে শহীদ হন। ১৯৭১ সালের ২১ আগস্ট ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জালাল উদ্দিনের ধানমণ্ডি বাসা থেকে বদিউল আলমকে ধরে নিয়ে যায় পাকা হানাদার বাহিনী। পরবর্তীতে তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাকে বীরবিক্রম উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। সেইদিনই ধরা পড়েন রুমী, আজাদ, জুয়েল, সামাদ, মাসুদ সাদেকসহ ক্র্যাক প্লাটুনের অনেক সদস্য। পরবর্তীতে তারা সবাই শহীদ হোন।

আজকের এইদিনে বার্তা বাজার পরিবার শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে এইসব বীর সেনানীদের। তথ্য: উইকিপিডয়া

বার্তাবাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর